বগুড়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৬, চোখ উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, গত রাতে ভোট কেনার অভিযোগে দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পানশুন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে বিএনপি ও জামায়াত পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে।
মঙ্গলবার ( ১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এক স্থানীয় বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার ভাইকে মারধর করেন এবং তার একটি চোখ উপড়ে ফেলেন।
মোশাররফ হোসেন বলেন, সোমবার রাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল মজিদ (বর্তমানে জামায়াত কর্মী) ও অন্য জামায়াত-শিবির কর্মীরা পানশুন গ্রামের এক ভোটারের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে টাকা বিতরণ করতে যান।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কর্মীরা তাদের হাতেনাতে আটক করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই শত শত জামায়াত সমর্থক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে করে এসে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং আটক কর্মীদের জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান তার একটি চোখ উপড়ে গেছে।
এ ঘটনায় পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা থাকারও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের প্রায় এক ঘণ্টা পর একই স্থানে বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি ভোট কেনার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ফয়সাল দাবি করেন, গণভোটের প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপর বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায়।
পানশুন গ্রামের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, শেষ দিনে আমাদের কর্মী ফারুক ও অন্যরা বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিুল ইসলাম হঠাৎ তাদের ওপর হামলা করেন।
তিনি বলেন, আমাদের কর্মীদের মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
ফয়সাল আরও বলেন, ঘটনা জানার আগেই স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থল দুর্গম গ্রামে হওয়ায় পুলিশ সেখানে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
পরে আটক ব্যক্তিদের স্বজন ও কিছু জামায়াত সমর্থক সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় বলে তিনি জানান।
ফয়সাল বলেন, বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা দুজনই চাই না কাহালু-নন্দীগ্রামে সহিংসতা হোক।
জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, কিছু লোক (জামায়াত কর্মী) আটক থাকার খবর পেয়েছিলাম। তবে ঠিক কখন জামায়াত সমর্থকেরা হামলা করে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমি জানি না। কারও চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে কিনা, তা চিকিৎসক বলতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯ টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে