খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনা নগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী বিশেষ যৌথ অভিযান চলাকালেই রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুপুরে কাজীপাড়া বাজারে বসে থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরিহিত এক দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার বলেন, রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই পরিচয় উল্লেখ ছিল।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রেজাউর রহমান বলেন, মোটরসাইকেলে আসা এক দুর্বৃত্ত রফিকুল ইসলামের তলপেটে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, রফিকুল ইসলাম বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করতেন এবং মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তিনি পাথর ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
খুলনা মহানগরে বর্তমানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ড নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মতামত দিন