কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বহিষ্কার
নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আহম্মদ আলী দেওয়ানকে (৬৫) বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক দলীয় চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তার কর্মকাণ্ড দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত আহম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন— তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. এবাদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও মো. গাফফার (৩৭)। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাকে গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এ ঘটনার বিচার চেয়ে কিশোরীর পরিবার আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে গেলে তারা বিচার পায়নি।
পরিবারের অভিযোগ, তিনি বিচারের নামে অভিযুক্তদের সঙ্গে রফাদফা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে কিশোরীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাওয়ার পথে বিলপাড় এলাকায় নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি সরিষাখেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে