পাবনার দুই আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও বিএনপির
পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। শুক্রবার বিকেল থেকে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারি ফলাফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আলী আছগর ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।
পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু তালেব মন্ডল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৫ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতা–কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই আসন থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে আসেন তারা। বিকেল ৪টার দিকে কয়েক হাজার নেতা–কর্মী সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আব্দুল আলীম জানান, দুই আসনের দুই প্রার্থীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক বৈঠক করেছেন এবং তাদের দাবির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিক্ষোভকারীরা কার্যালয় ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভরত বিএনপি নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, ভোট গণনায় অসামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক সংখ্যক বাতিল ভোট, পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া এবং কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবে গরমিল রয়েছে। দাবি না মানলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
পাবনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ভোট গণনায় পুরোটাই জালিয়াতি হয়েছে। আমরা এই ফলাফল মানি না। ভোট পুনর্গণনার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে