Views Bangladesh Logo

সমালোচনার মুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন। গত ১৬ জুলাই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

গত ১৩ জুলাই থেকে চত্বরটি ভাঙার কাজ শুরু হলেও কার নির্দেশে বা কোন সংস্থার উদ্যোগে এটি অপসারণ করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশ্যে ভাঙার কাজ চললেও এ বিষয়ে কোনো তদন্তও শুরু হয়নি।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে তিনি জানতেন না যে এটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের চত্বর ও ভাস্কর্য। তিনি জানান, স্থানীয়দের আপত্তির কারণে নির্মাণকাজ আগেই বন্ধ ছিল বলে তিনি জেনেছেন। তবে ভাস্কর্যটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই ভাঙার কাজ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে উপযুক্ত স্থানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য যথাযথ মর্যাদায় স্থাপন করা হবে।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, ভাস্কর্য অপসারণের আগে তাদের দপ্তরের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে জেলা পরিষদ ও ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে চত্বরটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে স্থানটি ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, শনিবার থেকে ভাঙার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এই কাজ পৌরসভা করেনি। কারা এটি ভাঙছিল, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তারা উপস্থিতও ছিলেন। তিনি দাবি করেন, এটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য। তাই এটি ভেঙে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে ভাস্কর্যটি সংস্কার করে একই স্থানে পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে শহরের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি বিমূর্ত আবক্ষ ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে জাতীয় পতাকা ও মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চত্বরটির উচ্চতার কারণে চারমুখী মোড়ে যান চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই তা বন্ধ হয়ে যায়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ