Views Bangladesh Logo

ঝিনাইদহে ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য, কারণ জানেন না কেউ

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকেরা চত্বরটি অপসারণের কাজ করলেও প্রথম দিকে কারা এবং কী কারণে এটি ভাঙা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কেউই। এতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত চত্বরটি ভাঙার দৃশ্য সরেজমিনে দেখা গেছে। কর্মরত শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য না করে পৌরসভায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

এক পথচারী বলেন, প্রতিটি শহরের প্রবেশমুখে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সাধারণত ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি থাকে। ঝিনাইদহের প্রবেশমুখেও জেলার গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এই স্মারকটি ছিল, যা এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে অথচ কারণ কারও জানা নেই।

ঝিনাইদহের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করে বীরত্বের ইতিহাস লিখে গেছেন। তার নামে শহরের প্রবেশমুখে চত্বর-ভাস্কর্য থাকলে নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে জানতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চত্বর অপসারণ নিয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান শুরুতে বলেন, কেন ভাঙা হচ্ছে তা তার জানা নেই এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন। যোগাযোগ করা হলে ঝিনাইদহের বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, এটি যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মারক তা তার জানা ছিল না, আর জেলা প্রশাসন এটি ভাঙছেও না। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পৌরসভার সমন্বয়ে জায়গাটি থেকে চত্বর সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেশ আগেই হয়েছিল বলে জানান তিনি, আর সম্ভবত এখন সেই পুরোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠের একটি প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এই দাবি নাকচ করে বলেন, কারা চত্বরটি অপসারণ করছে, তা তার জানা নেই।

বর্তমান কর্মকর্তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানিয়েছেন, জনদুর্ভোগ কমাতে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেই চত্বরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কারণ এটি যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল। এখন সম্ভবত সেই আগের সিদ্ধান্তই কার্যকর করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং তার ভাই মুস্তাফিজুর রহমান সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। কিন্তু এখন ফেসবুকের মাধ্যমে দেখছেন চত্বরটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, অথচ কেন বা কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো তা পরিবারকে জানানো হয়নি। ভাস্কর্যটি সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে সরাতেই হলে অন্তত পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা যেত বলে মনে করেন তিনি, আর কাউকে না জানিয়ে এভাবে অপসারণ করাকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল বলে উল্লেখ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ