জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই বিমানের
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বুধবার স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। নতুন ক্রয়াদেশের ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পিত সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।
নতুন চুক্তির আওতায় রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি পুরোনো উড়োজাহাজের জায়গায় আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ যুক্ত করতেই এ ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বোয়িং।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স আগের প্রজন্মের উড়োজাহাজের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী।
চুক্তিতে বিমানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন। আর বোয়িংয়ের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও বোয়িংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওই ক্রয়াদেশে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। সেটিই ছিল বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ। ওই চুক্তির উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার ফলে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের দীর্ঘদিনের বহর উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত হলো। বোয়িং জানিয়েছে, ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজটি বিমানের একক-আইল নেটওয়ার্কে তুলনামূলক বেশি দূরত্বে চলাচলের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনারে বেশি যাত্রী পরিবহনের সুযোগ থাকায় এটি বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা যাবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বর্তমান বহরে ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ৭৭৭-৩০০ইআর, ৭৩৭-৮০০ এবং ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ রয়েছে। বিমানের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
বহর আধুনিকায়নের এই পরিকল্পনায় শুধু বোয়িং নয়, ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এয়ারবাসের কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ নেওয়ার পরিকল্পনা এগোচ্ছে, যার মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ রয়েছে। দুটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন করে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের পথ তৈরি হবে, যার মধ্যে বোয়িংয়ের ২৫টি এবং এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ থাকবে।
মতামত দিন