Views Bangladesh Logo

বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, চুক্তি আজ

সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এই চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয় করবে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে আধুনিক বহর সম্প্রসারণের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এতে বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন।

বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং এভিয়েশন খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত থাকবেন বলে বিমান সূত্রে জানা গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে—আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট।

বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটির বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কার্যক্রম জোরদার করাই এই ক্রয়ের মূল লক্ষ্য। বড় আকারের ড্রিমলাইনারগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ায় সেবা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্পপাল্লার রুটে ব্যবহৃত হবে।

উল্লেখ্য, বিমানের এই বড় ক্রয় আদেশকে কেন্দ্র করে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন কোম্পানি বোয়িং এবং ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছিল। ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথ ইশতেহারে ১০টি এয়ারবাস এ৩৫০ (কার্গোসহ) উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি উঠে আসায় এয়ারবাস বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের যুক্তি ছিল, এয়ারবাস অন্তর্ভুক্ত করলে বিমানের একক ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে।

তবে বোয়িং কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখে ড্রিমলাইনার ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেয়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের অংশীদার বোয়িংয়ের ওপরই আস্থা রাখল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ