মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা, বিজয়া দশমীতে উৎসবের শেষ লগ্ন
ছয় দিনের শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন বিজয়া দশমী আজ সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্যবাহী আচার ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে। দিনভর সিঁদুর খেলার পর সন্ধ্যায় নদী, পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের উৎসব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই পরস্পরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্তরা। দেবী দুর্গা মর্ত্যের বাপের বাড়ি ছেড়ে বিদায় নেওয়ার এই দিনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির এবং রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
লালপাড় সাদা শাড়ি পরে সিঁদুর খেলায় অংশ নিচ্ছেন বিবাহিত হিন্দু নারীরা। বিজয়া দশমীর অন্যতম প্রধান এই আচার মূলত বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতে পালন করা হয়। দশমীর শেষ পূজা শেষে দেবীকে সিঁদুর ও মিষ্টি নিবেদন করেন নারীরা। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে মিষ্টি বিনিময় করেন এবং দাম্পত্য সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। ঐতিহ্যগতভাবে নারীরা এই আচার পালন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরুষ ভক্তদেরও অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সকালে মন্দির ও অস্থায়ী মণ্ডপে দশমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হয় দর্পণ বিসর্জন, যেখানে প্রতিমা বিসর্জনের আগে প্রতীকীভাবে দেবীর প্রতিবিম্ব বিসর্জন দেওয়া হয়। আচার শেষে রঙিন শোভাযাত্রা নিয়ে ভক্তরা শহরের সড়ক ধরে কাছের জলাশয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। আগে বাঁশের কাঠামোয় বহন করা হলেও এখন সাজানো ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে প্রতিমা নেওয়া হচ্ছে। কিছু প্রতিমা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। "আসছে বছর আবার হবে" স্লোগানে ভক্তরা দেবীর আগামী বছর ফিরে আসার প্রত্যাশা জানাচ্ছেন।
রাজধানীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, কলাবাগান, বনানী, শাঁখারী বাজার এবং রমনা কালীমন্দিরের বড় মণ্ডপগুলোয় সকাল থেকে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটেছে। বিসর্জন উপলক্ষে রাজধানীতে বিপুল জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালের মতো বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, দিনাজপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল ও সাতক্ষীরার মতো জেলা শহরেও একই রকম উৎসব চলছে।
বিসর্জন শেষে ছোটরা বড়দের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন, আর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা কোলাকুলি করে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ উপলক্ষে পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মধ্যে চমচম, কালো জাম, সন্দেশ ও নারকেলের নাড়ুসহ নানা ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে।
মতামত দিন