চলতি সেপ্টেম্বরে বাজার মাতাতে আসছে যেসব ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর থাকবে একঝাঁক নতুন স্মার্টফোনের দিকে। শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই এ মাসে নতুন মডেল উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে অ্যাপল, শাওমি, হুয়াওয়ে, ভিভো, অপো, অনার, পোকো ও আইকিউওওর বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রযুক্তির ফোন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অ্যাপল
সেপ্টেম্বরের সবচেয়ে আলোচিত স্মার্টফোনের তালিকায় রয়েছে অ্যাপলের নতুন আইফোন সিরিজ। ৯ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য এক অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ফাঁস হওয়া বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ফোন দুটিতে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এ২০ প্রো চিপ, ১২ গিগাবাইট র্যাম এবং অ্যাপলের নিজস্ব নতুন সি২ মডেম থাকতে পারে। এ ছাড়া ডায়নামিক আইল্যান্ডের আকার আরও ছোট করে ফেস আইডির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ডিসপ্লের নিচে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ৭.৮ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ পর্দা এবং ৫.৩ ইঞ্চির বাইরের পর্দা থাকতে পারে। এই ফোনে ফেস আইডির পরিবর্তে পাওয়ার বাটনের সঙ্গে টাচ আইডি যুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
শাওমি
সেপ্টেম্বরেই শাওমি ১৮ ফোল্ড ও শাওমি ১৮ প্রো সিরিজ বাজারে আনতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভাঁজযোগ্য মডেলটিতে শাওমির নিজস্ব এক্সরিং ও৩ চিপ এবং ৭.৬ ইঞ্চির পর্দা থাকতে পারে। ক্যামেরায় ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর এবং ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার বেশি ধারণক্ষমতার ব্যাটারি থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে শাওমি ১৮ প্রো সিরিজে কোয়ালকমের সর্বাধুনিক স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৬ চিপসেট ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। সিরিজটির ফোনগুলোতে উন্নতমানের ক্যামেরা সেন্সরও থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হুয়াওয়ে
ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে নতুন চমক নিয়ে আসতে পারে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মেট এক্সটি২ মডেলটি ট্রাই-ফোল্ড বা তিন ভাঁজের ফোন হতে পারে। এতে ভাঁজ খোলার পর ১০.২ ইঞ্চির পর্দা, নতুন প্রজন্মের কিরিন চিপ এবং ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার বেশি ধারণক্ষমতার ব্যাটারি থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মেট ৯০ সিরিজেও নতুন কিরিন চিপ, ট্যান্ডেম ওএলইডি পর্দা এবং সর্বোচ্চ ৭ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি থাকতে পারে। সিরিজের প্রো ম্যাক্স সংস্করণে দূরপাল্লার অপটিক্যাল জুমসহ উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভিভো ও অপো
ভিভোর সম্ভাব্য এক্স৫০০ সিরিজেও ক্যামেরা প্রযুক্তিতে বড় ধরনের উন্নয়ন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে এক্স৫০০ প্রো ম্যাক্স মডেলে জাইসের সহযোগিতায় তৈরি ক্যামেরা ব্যবস্থা, উন্নত ডায়নামিক রেঞ্জ এবং ৪কে মানের ভিডিও প্রতি সেকেন্ডে ২৪০ ফ্রেম গতিতে ধারণের সুবিধা থাকতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অপোর ফাইন্ড এক্স১০ সিরিজে দুটি ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং বড় ধারণক্ষমতার ব্যাটারি থাকার গুঞ্জন রয়েছে। কিছু সংস্করণে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৮ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অনার
সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বাজারে আসতে পারে অনার ম্যাজিক৯ সিরিজ। গুঞ্জন রয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরার জন্য পরিচিত এআরআরআইয়ের সহযোগিতায় এই ফোনে বিশেষ কালার সায়েন্স প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।
সিরিজের সর্বোচ্চ মডেলে সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তির ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে। এর ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৯ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পোকো ও আইকিউওও
উচ্চক্ষমতার স্মার্টফোনপ্রেমীদের জন্য সেপ্টেম্বরে পোকো এফ৯ প্রো ও এফ৯ আল্ট্রা বাজারে আসতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এফ৯ আল্ট্রা মডেলে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপ, ৮ হাজার ৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার ব্যাটারি এবং ১০০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি থাকতে পারে।
অন্যদিকে আইকিউওও ১৬ সিরিজেও থাকছে উচ্চক্ষমতার হার্ডওয়্যার। গুঞ্জন অনুযায়ী, ফোনটিতে ২কে রেজল্যুশনের সমতল পর্দা, ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং কোয়ালকমের পরবর্তী প্রজন্মের চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। এ ছাড়া ফোনটির স্পিকারে বোসের শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও সুর নির্ধারণ প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
মতামত দিন