এলপিপির কর্মীদের ‘সুরক্ষা দেবে’ বিজিএমইএ
বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের সঙ্গে পাওনা নিয়ে বিরোধের মধ্যে থাকা পোল্যান্ডের ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপির কর্মকর্তা-কর্মীদের সুরক্ষায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। একই সঙ্গে বকেয়া পাওনা নিয়ে এলপিপির অবস্থানকেও সমর্থন করেছে সংগঠনটি। বিজিএমইএ বলেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের আইনগত দায় রয়েছে, পাওনা আদায়ের দাবি তাদের বিরুদ্ধেই তোলা উচিত।
মঙ্গলবার বিজিএমইএ ও এলপিপির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই বিরোধের সঙ্গে জড়িত নন এমন পোশাক প্রস্তুতকারক, কর্মী কিংবা বাংলাদেশ ও এলপিপির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এ কারণে এ বিষয়ে ঢালাও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দুই পক্ষ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সামাল দিতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও শিল্প খাতের অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মধ্যে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মীরা যাতে অযাচিত হয়রানি, চাপ কিংবা ভিত্তিহীন আইনি কার্যক্রমের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও থাকবে।
তবে এই অবস্থান কোনো পক্ষের আইনগতভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ দাবি তোলার অধিকারকে সীমিত করবে না বলেও যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক কেনে এলপিপি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ায় থাকা ব্যবসা দেশটির এফইএস রিটেইলের কাছে বিক্রি করে দেয়। যুদ্ধ শুরুর সময় রাশিয়ায় এলপিপির ৫৫৭টি দোকান ছিল।
এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহকারীদের প্রায় ৪ কোটি ডলার পাওনা রয়েছে। বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিল এলপিপির ঢাকা অফিস। এ কারণে পাওনা আদায়ের জন্য সরবরাহকারীরা এলপিপির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন।
দীর্ঘদিনেও পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় গত মাসে বাংলাদেশের দুটি পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলপিপির বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর এলপিপির কর্মকর্তাদের বাসায় পুলিশ যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় এলপিপি। এতে বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
মঙ্গলবারের যৌথ বিবৃতিতে এলপিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশে পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যালোচনার সিদ্ধান্তের পেছনে স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা, আইনি নিরাপত্তা এবং ব্যবসার স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি ছিল। এই পর্যালোচনা কোনো নির্দিষ্ট পোশাক প্রস্তুতকারককে লক্ষ্য করে করা হয়নি। পাশাপাশি এলপিপির সঙ্গে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতেও এ সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না।
বর্তমানে যে ইনভয়েস ও বকেয়া পাওনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার জন্য এলপিপি আইনগতভাবে দায়ী বা দেনাদার নয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এলপিপির ভাষ্য, বাংলাদেশে তাদের সরাসরি সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সব পাওনা চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত পরিশোধ করা হয়।
এলপিপির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিজিএমইএ বলেছে, যেকোনো পাওনা আদায়ের দাবি আইনগতভাবে দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই তোলা উচিত।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে এলপিপির সঙ্গে ৩৫০টির বেশি পোশাক কারখানা কাজ করে। কয়েকটি তৃতীয় পক্ষের বিরোধের কারণে যাতে পুরো পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিভ্রান্তিকর বা ঢালাও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ ও এলপিপি।
মতামত দিন