বিজিবির ট্রাকের ধাক্কায় নিহত অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকার পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে বিজিবির একটি ট্রাকের ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৈঠকে নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব এবং অন্যান্য সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বাঘাইছড়ির ২৭ বিজিবির মারিশ্যা জোন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিবির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, নিহত শিক্ষিকার স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষতিপূরণের দাবি ওঠার পরই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিজিবি নিহতের পরিবারের জন্য বিভিন্ন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার দিনই পরিবারকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের জন্য আগামী রোববারের মধ্যে আরও চার লাখ টাকা দেওয়া হবে। নিহত শিক্ষিকার আট বছর বয়সী মেয়ে প্রাপ্তি চাকমার পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি, তার ভাই এইচএসসি পাস করার পর শারীরিকভাবে উপযুক্ত হলে বিজিবিতে চাকরির সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাজেক সড়কের ছয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গতিরোধক নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
গত শনিবার সকালে সাজেকের চাম্পাতলী এলাকায় বিজিবির একটি ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী সুমন্তি চাকমা নিহত হন। তিনি সাজেক ইউনিয়নের ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। সন্তান প্রসবের জন্য তাকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। দুর্ঘটনায় তার গর্ভের সন্তানও মারা যায়।
বৈঠকে বিজিবির মারিশ্যা জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত শিক্ষিকার পরিবারের পাশে থাকবে বিজিবি। বিশেষ করে তার শিশুকন্যার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানও ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
মতামত দিন