Views Bangladesh Logo

ভূমিকম্পের সময় নিরাপত্তার জন্য স্মার্টফোনে ফ্রি ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

হঠাৎ মাটিতে কম্পন শুরু হলে ভূমিকম্প সতর্কতা দেওয়ার মোবাইল অ্যাপগুলো মানুষের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সতর্কবার্তা বিশেষভাবে প্রয়োজন। প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, কারণ এখন সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরাও কয়েক সেকেন্ড আগেই সতর্ক হতে পারেন। যদিও এসব প্রযুক্তি ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না, তবু মানুষকে পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেয় এবং আতঙ্কের মুহূর্তে কিছুটা প্রস্তুতির সুযোগ করে দেয়। ২০২৫-২৬ সালের প্রেক্ষাপটে স্মার্টফোনের জন্য নির্ভরযোগ্য কয়েকটি ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ নিচে তুলে ধরা হলো।

MyShake Earthquake Alerts (মাইশেক আর্থকুয়াক এলার্টস)

ভূমিকম্প সতর্কতা অনেক সময় তাত্ত্বিক মনে হয়, যতক্ষণ না বাস্তবে মাটি কাঁপতে শুরু করে। এ কারণে ‘MyShake’ (মাইশেক) অ্যাপটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলির সিসমোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি এটি তৈরি করেছে। ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে কম্পন আপনার এলাকায় পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ড আগেই এটি নোটিফিকেশন পাঠায়। সময়টি খুবই কম হলেও অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে স্থির করা বা বিপজ্জনক স্থান থেকে সরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

অ্যাপটি ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চালু হয় এবং অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা তার পরবর্তী সংস্করণ এবং আইওএস ১২ বা তার পরবর্তী সংস্করণে চলে। ফলে এটি বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য সহজলভ্য। তবে ব্যবহারকারীরা জানান, অবস্থানভেদে সতর্কতার সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে, যা মূলত সিসমিক নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য।

My Earthquake Alerts (মাই আর্থকুয়াক এলার্টস)
অনেক সময় মানুষ ভূমিকম্পের আগে সতর্কবার্তার চেয়ে ভূমিকম্পের পর দ্রুত তথ্য পাওয়ার ওপর বেশি নির্ভর করেন। ‘My Earthquake Alerts’ (মাই আর্থকুয়াক এলার্টস)মূলত সেই কাজটিই করে। ২০১৫ সালের ৩ মে JRustonApps B.V. এটি প্রকাশ করে। ভূমিকম্প ঘটার পর দ্রুত এবং পরিষ্কার তথ্য দেওয়াই এই অ্যাপের লক্ষ্য।

এটি অ্যান্ড্রয়েড ৭ বা তার পরবর্তী সংস্করণ এবং আইওএস ১৫ বা তার পরবর্তী সংস্করণে ব্যবহার করা যায়। সহজ ও পরিষ্কার তথ্য দেওয়ার কারণে এটি অনেকের কাছে জনপ্রিয়। যদিও এতে ভূমিকম্পের আগে সতর্কবার্তা নেই, তবে দ্রুত আপডেট দেওয়াই এর প্রধান শক্তি।

LastQuake (লাস্টকুয়াক)
যারা শুধু সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর না করে ভূমিকম্প সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা পেতে চান, তাদের জন্য ‘LastQuake’ (লাস্টকুয়াক) ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC-CSEM) এটি তৈরি করেছে এবং এতে সরাসরি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের অবদান রয়েছে।

এই অ্যাপটি প্রত্যক্ষদর্শীদের রিপোর্ট সংগ্রহ করে, যা অনেক সময় কম্পন অনুভবের প্রথম দিকের তথ্য হয়ে থাকে। ব্যবহারকারীরা ছবি, ভিডিও এবং দ্রুত প্রশ্নাবলীর মাধ্যমে তথ্য শেয়ার করতে পারেন। এটি প্রচলিত আগাম সতর্কতা অ্যাপ না হলেও ব্যবহারকারীরা ভূমিকম্পের মাত্রা, দূরত্ব এবং ভয়েস অ্যালার্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত নোটিফিকেশন সেট করতে পারেন। ২০১৪ সালের ১৮ জুন চালু হওয়া এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ৭ বা তার পরবর্তী এবং আইওএস ১১ বা তার পরবর্তী সংস্করণে চলে।

Android Earthquake Alerts System(এন্ড্রয়েড আর্থকুয়াক এলার্টস সিস্টেম)

অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হয়তো জানেন না যে তাদের ফোনেই একটি বিল্ট-ইন ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা রয়েছে। ‘Android Earthquake Alerts System’ (এন্ড্রয়েড আর্থকুয়াক এলার্টস সিস্টেম) নামে পরিচিত এই ব্যবস্থা ২০২২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশে চালু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলির সিসমোলজি গবেষকদের সহযোগিতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা তার পরবর্তী সংস্করণ চালিত বেশিরভাগ ফোনে এটি কাজ করে। ফোনের ভেতরের অ্যাক্সেলোমিটার ব্যবহার করে এটি প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে এবং কাছাকাছি ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা দেয়। সাধারণত ৪.৫ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য সতর্কতা দেখানো হয়, যাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যালার্ট কম থাকে। এটি চালু করতে ফোনের সেটিংস থেকে লোকেশন এবং এডভান্স অপশনে গিয়ে সক্রিয় করা যায়।

QuakeFeed Earthquake Alerts(কুয়াক ফিড আর্থকুয়েক এলার্টস)
আইফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ‘QuakeFeed’ (কুয়াক ফিড) নামের অ্যাপটির ওপর নির্ভর করেন। Artisan Global LLC (আর্টিসান গ্লোবাল এলএলসি) এটি তৈরি করেছে এবং ২০২১ সালে চালু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের মানচিত্র দেখা যায়। পাশাপাশি দাবানল, ঘূর্ণিঝড়, আগ্নেয়গিরি বা ধোঁয়ার মতো প্রাকৃতিক ঝুঁকির তথ্যও পাওয়া যায়। এটি আইওএস ১৫ বা তার পরবর্তী সংস্করণে চলে। এতে কাস্টমাইজড অ্যালার্ট, কাছাকাছি এলাকার সতর্কতা, অঞ্চলভিত্তিক ফিল্টার, ৩ডি গ্লোব, স্যাটেলাইট ও স্ট্রিট ম্যাপ এবং ফল্ট লাইন লেয়ারসহ নানা সুবিধা রয়েছে। যদিও কিছু ব্যবহারকারীর কাছে ইন্টারফেসটি একটু জটিল মনে হতে পারে, তবু বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও টুল থাকার কারণে এটি অনেকের জন্য উপযোগী।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ভূমিকম্প সতর্কতা দেওয়ার এসব মোবাইল অ্যাপ প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতিকে ২০২৫-২৬ সালের দিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েডের বিল্ট-ইন ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা দ্রুততার দিক থেকে আলাদা গুরুত্ব রাখে। পাশাপাশি MyShake, My Earthquake Alerts ও LastQuake অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ব্যবহারকারীদের তথ্য পেতে সহায়তা করে, আর QuakeFeed আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। সব মিলিয়ে এসব অ্যাপ ভবিষ্যতের ভূমিকম্প মোকাবিলায় মানুষের প্রস্তুতিকে আরও বিস্তৃত করছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ