Views Bangladesh Logo

৩০ হাজার টাকার বাজেটে সেরা ক্যামেরা ফোন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

২০২৬ সালে বাজেট স্মার্টফোনের মধ্যেও ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের ফটোগ্রাফি আনার প্রতিযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তীব্র। বাংলাদেশেও এখন আর দামী ফোন ছাড়া চমৎকার ছবি তোলা অসম্ভব নয়। মাত্র ৩০ হাজার টাকার বাজেটেই এখন এমন সব ফোন পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোতে রয়েছে উন্নত ক্যামেরা হার্ডওয়্যার— ওআইএস (অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন), বড় সনি সেন্সর, ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, এমনকি ফোরকে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও। কয়েক বছর আগেও এই ফিচারগুলো এই দামে কল্পনাতীত ছিল।

স্যামসাং
এই সেগমেন্টের শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫৫ ফাইভ জি, যার দাম প্রায় ২৮,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকার মধ্যে। এতে থাকা ৫০ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস), যা বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলা এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় বাস্তবিকভাবে বড় পার্থক্য তৈরি করে। স্যামসাংয়ের ইমেজ প্রসেসিং দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক কিন্তু প্রাণবন্ত ছবি দেওয়ার জন্য পরিচিত, এবং এই মডেলেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারীর জন্য এই ফোনটি এই বাজেটে সবচেয়ে ব্যালান্সড ও নির্ভরযোগ্য ক্যামেরা এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম।

শাওমি
শাওমি রেডমি নোট ১৩ প্রো-তে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের স্যামসাং আইএসওসিইএলএল এইচপি৩ সেন্সর, যা এই দামের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ রেজোলিউশন। দিনের আলোতে এটি অসাধারণ ডিটেইল ক্যাপচার করতে সক্ষম, ফলে ক্রপিং ও এডিটিংয়ের জন্য ব্যবহারকারীরা অনেক বেশি ফ্লেক্সিবিলিটি পান। ফোনটি ফোরকে ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করে এবং এতে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্সও রয়েছে। তবে নাইট ফটোগ্রাফিতে এর পারফরম্যান্স সবসময় স্যামসাংয়ের মতো স্মুথ নাও হতে পারে, তাই এটি তাদের জন্য ভালো যারা ম্যানুয়াল এডিটিং পছন্দ করেন।

রিয়েলমি

রিয়েলমি ১২ প্রো মূলত পোর্ট্রেট ও মানুষভিত্তিক ফটোগ্রাফির জন্য শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এতে রয়েছে সনি আইএমএক্স৮৯০ সেন্সর এবং একটি ৩২ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স। এই কম্বিনেশন ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ও স্কিন টোন রেন্ডারিংয়ে দারুণ ফলাফল দেয়। এআই-সাপোর্টেড পোর্ট্রেট মোড এই দামে অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা দেয়। ওআইএস থাকার কারণে কম আলোতেও স্থির ও শার্প ছবি পাওয়া যায়। যারা ইভেন্ট, স্ট্রিট ফটোগ্রাফি বা ক্যাজুয়াল পোর্ট্রেট বেশি তোলেন, তাদের জন্য এটি খুবই ভালো একটি অপশন।

পোকো
কম বাজেটের মধ্যে শক্তিশালী পারফরম্যান্স খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য পোকো এক্স সিক্স একটি ভালো বিকল্প। এর দাম প্রায় ২২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে। এতে রয়েছে ৬৪ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরা, এফ/১.৭৯ অ্যাপারচার, যা ভালো আলোতে শার্প ও ডিটেইলড ছবি তুলতে পারে। নাইট মোডও এই দামের তুলনায় ভালো পারফর্ম করে। যদিও এটি উচ্চ দামের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো উন্নত প্রসেসিং দেয় না, তবু যারা বাজেট ও পারফরম্যান্স দুটোই চান তাদের জন্য এটি ভ্যালু-ফর-মানি একটি ফোন।

ইনফিনিক্স

ক্যামেরা আলোচনায় সাধারণত কম গুরুত্ব পেলেও ইনফিনিক্স নোট ৪০ প্রো ভিডিও-কেন্দ্রিক ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ভালো অপশন। এতে রয়েছে ১০৮ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা এবং আরজিবিডব্লিউ সেন্সর, যা অতিরিক্ত ওয়াইট পিক্সেলের মাধ্যমে বেশি আলো ধারণ করতে পারে। ফলে কম আলোতেও ভিডিও তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ও ক্লিন দেখা যায়। বিশেষ করে যারা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছোট ভিডিও বা কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদের জন্য এটি ভালো মানের একটি সাশ্রয়ী ফোন। এর দাম প্রায় ২০,০০০ থেকে ২৩,০০০ টাকার মধ্যে, যা এটিকে এই তালিকার সবচেয়ে বাজেট-ফ্রেন্ডলি অপশন করে তোলে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ