জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা, পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা
দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতা, মজুতদারি ও কারসাজি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ।
ফুয়েল কার্ড মূলত একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পেট্রল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি কেনা যাবে। এটি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে, তবে এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট গাড়ির জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, খরচ মনিটরিং এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকের জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকবে, যা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে—
১. সহজ পেমেন্ট: নগদ অর্থ ছাড়াই কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে জ্বালানি কেনা যাবে।
২. খরচ নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে।
৩. নিরাপত্তা: কার্ডটি নির্দিষ্ট গাড়ির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অপব্যবহার কমবে।
৪. মজুতদারি রোধ: কেন্দ্রীয় সার্ভারে হিসাব থাকায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ ও অবৈধ মজুত কঠিন হবে।
৫. সময়ের সাশ্রয়: লেনদেন স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় রসিদ বা কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া কিছু অসাধু চক্র জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, পুরো সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটি চালু হলে খাতটিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অপচয় ও কারসাজি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে