তিন মিনিটে দুই গোল, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সমতায় বেলজিয়াম
৮৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে ফেলেছিল সেনেগাল। কিন্তু শেষ পাঁচ মিনিটের অবিশ্বাস্য নাটকে সব হিসাব উল্টে দিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের এই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়েছে, যা এখন গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট প্রাধান্য দেখায় সেনেগাল। ২৫তম মিনিটে দীর্ঘ এক আক্রমণ পর্বের সমাপ্তি টানেন হাবিব দিয়ারা, যিনি সেনেগালকে এনে দেন প্রথম গোল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ৫১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার, যিনি প্রথমার্ধে একবার পোস্টে লেগে ফেরা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও এবার আর ভুল করেননি।
এই সময় পর্যন্ত বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। জেরেমি দোকু ও কেভিন ডি ব্রুইনার উপস্থিতি সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় লক্ষ্যেই কোনো শট নিতে পারেনি রেড ডেভিলরা। তাদের আক্রমণগুলো ছিল পূর্বানুমানযোগ্য, আর সেনেগালের সুসংগঠিত রক্ষণ প্রতিটি আক্রমণই অনায়াসে সামলে নিচ্ছিল।
তবে খেলার ভাগ্য বদলে যায় শেষ পাঁচ মিনিটে। ৮৬তম মিনিটে বক্সের ভেতর জায়গা করে নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমান রোমেলু লুকাকু। এরপর মাত্র তিন মিনিট পরই, ৮৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণের সমাপ্তি টেনে সমতাসূচক গোলটি করেন ইউরি টিলেমান্স, যিনি নিখুঁত শটে পরাস্ত করেন সেনেগালের গোলরক্ষককে। এই গোলেই পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যায়—দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটায় বেলজিয়াম।
পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন গল্প। শট সংখ্যায় স্পষ্ট এগিয়ে বেলজিয়াম—তারা মোট ১৫টি শট নিয়েছে, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। সেনেগালও কম যায়নি, তারা নিয়েছে ১২টি শট, লক্ষ্যে ছিল ৪টি। বল দখলেও শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেছে বেলজিয়াম (৫৪-৪৬)। তবে ফাউলের সংখ্যায় (বেলজিয়াম ১২, সেনেগাল ১০) বোঝা যায় ম্যাচের শেষদিকে উত্তেজনা কতটা বেড়েছিল, যার প্রতিফলন দেখা গেছে উভয় দলের একটি করে হলুদ কার্ডেও।
এই ড্রয়ের ফলে ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে নির্ধারিত হবে কোন দল উঠবে শেষ ষোলোয়। সেনেগালের জন্য এটি ঐতিহাসিক এক সুযোগ ছিল—জিতলে তা হতো দেশটির ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট জয়। অন্যদিকে বেলজিয়ামের জন্য এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, কেভিন ডি ব্রুইনা ও রোমেলু লুকাকুর মতো অভিজ্ঞ তারকাদের নিয়ে গড়া দলটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়ে না।
অতিরিক্ত সময়ে কোন দল বাড়তি জ্বালানি নিয়ে মাঠে নামে, তার ওপরই নির্ভর করছে শেষ ষোলোর টিকিট কার কাছে যাবে।
মতামত দিন