Views Bangladesh Logo

পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ৮ জন রিমান্ডে

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মো. আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. গোলাম রাব্বি (২২), বিল্লাল (৩৪) ও দেলোয়ার (৩৩)। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জনকে পাঁচ দিন করে এবং বাকি দুজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ হোসেন।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে পৃথক দুটি আবেদনে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. জাকির আল আহসান।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর স্বামী আলতাফ হোসেনকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি জহুরুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোগ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে আসামিদের রোষের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন।

প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় এবং ক্যাশ বাক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

পরে গুরুতর আহত আলতাফ হোসেন ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ