ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বিপিএল সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি নিষিদ্ধ
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
অভিযুক্ত দুজন হলেন—বিপিএলের ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক মো. আবদুল কায়ুম রাশেদ এবং ১১তম আসরে দুর্বার রাজশাহী ও ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক অপারেশন ম্যানেজার মো. আমিন খান।
বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিপিএলের ১১তম ও ১২তম আসরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো আনা হয়।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
মো. আবদুল কায়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১, ২.৪.৪, ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২.১.১ ধারায় কোনো ম্যাচ বা ম্যাচগুলোর ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা, ম্যাচ ফিক্সিং বা ফিক্সিংয়ের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
২.৪.৪ ধারায় দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে সময়মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২.৪.৬ ধারায় সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিধিমালার ৪.৩ ধারা অনুযায়ী জারি করা নির্দেশনা মেনে নিজের ব্যবহৃত প্রধান মোবাইল ফোন জমা না দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া ২.৪.৭ ধারায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এর ফলে তদন্তকারীরা ওই ফোনে থাকা সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করতে পারেননি।
অন্যদিকে মো. আমিন খানের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২.১.৪ ধারায় কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করা, উৎসাহিত করা, প্রস্তাব দেওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
২.৪.৬ ধারায় সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা না করার বা নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর ২.৪.৭ ধারায় তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা অন্যান্য তথ্য গোপন কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের পর অভিযুক্ত দুজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইসিসির বিধিমালা অনুযায়ী চলমান শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নোটিশ পাওয়ার পর অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তাঁরা ১৪ দিন সময় পাবেন।
এ বিষয়ে এই পর্যায়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
মতামত দিন