বন্ধ থাকার তিন দিন পর চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
কয়েক দিনের বিরতির পর আবার সচল হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে সাইটটিতে ঢোকা যাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় ধরা পড়া নিরাপত্তা দুর্বলতা থেকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতেই সাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। তখন আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, জরুরি নিরাপত্তা সমস্যা দেখা দেওয়ায় আগাম সতর্কতা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তখন জানিয়েছিল, ওয়েবসাইটের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সারানোর কাজ চলছে। ঝুঁকি যাচাই ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত হলেই সাইটটি আবার চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পিএইচপির দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা দূর থেকে সার্ভারে অনুমতিহীন নির্দেশ চালাতে পারেন। ফলে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও স্পর্শকাতর তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) গত বুধবার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সংশোধন করতে বলে। তাতে সম্ভব না হলে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়। একই দিন পিএইচপির ডেভেলপাররা ত্রুটি দুটি সারাতে নতুন হালনাগাদ প্রকাশ করেন। সে সময় ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছিল।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি পিএইচপিনির্ভর আরও কয়েকটি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের সতর্কতা নিয়েছিল। তবে এ ত্রুটির সুযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইটে সত্যিই কোনো সাইবার হামলা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
পিএইচপি বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত একটি সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মসহ অনেক অনলাইন সেবা এর ওপর নির্ভর করে। তবে পিএইচপি ব্যবহার করলেই কোনো সাইট ঝুঁকিতে পড়ে না। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর।
মতামত দিন