Views Bangladesh Logo

এস আলমের ছয় ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার সীমা বেঁধে দিল কেন্দ্রিয় ব্যাংক

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

স আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)। এখন থেকে এসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ দিতে পারবে না। যে সকল প্রতিষ্ঠানের ওভারডিউ এবং ওভারডিউ ঋণ আছে তাদের নগদ সংগ্রহ ছাড়া নবায়ন করা যাবে না, এই মর্মে ব্যাংক ছয়টিকে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ব্যাংকগুলোর সার্বিক আর্থিক অবস্থার অবনতি রোধ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ মেজবাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ থেকে এই ছয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও এলসি খোলা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

ব্যাংক ছয়টি হলো- ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। এর আগে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্যও একই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন সময়ে এই সীমা আরোপ করেছে যখন এস আলম গ্রুপের ঋণের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে এই ৬টি ব্যাংক প্রায় তারল্য শূন্য ছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপন করেন সাবেক গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। সে সময় এই ৬টি ব্যাংককে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার মুদ্রা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এস আলম গ্রুপও ঋণ প্রকল্পের আওতায় সমস্ত টাকা লুট করে নেয়।

গত বুধবার (১৪ আগস্ট), অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর এই ৬টি ব্যাংককে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন নতুন গভর্নর।

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উন্নতি ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংক কোম্পানি আইনে অর্পিত ক্ষমতাবলে চিঠিতে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো- কৃষি বিনিয়োগ, চলতি মূলধন এবং সিএমএসএমই খাতে ঋণ, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দেওয়া ঋণ, নিজ ব্যাংকে রক্ষিত স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ সুবিধা ও শতভাগ নগদ মার্জিনের বিপরীতে ঋণ ও অন্যান্য পরোক্ষ ঋণসুবিধা ছাড়া অন্য কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে না। এসব ঋণ ও ঋণ সুবিধা পাঁচ কোটি টাকার বেশি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা সীমাতিরিক্ত বকেয়া ঋণের স্থিতি নগদ আদায় ছাড়া কোনো গ্রাহকের বিদ্যমান ঋণ সুবিধা নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে না। অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বিনিয়োগ অধিগ্রহণ করা যাবে না। এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংককে শীর্ষ ২০ ঋণ গ্রাহকের ঋণ আদায়ের তথ্য মাসিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ