ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষিতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
কৃষি খাতে চলতি অর্থবছরের ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এতদিন এ হার ছিল আড়াই শতাংশ। সে হিসাবে, গত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই নতুন নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। কৃষি ঋণ কর্মসূচির তদারকি জোরদার করতে ‘ওয়েব বেসড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’ চালুর কথাও জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় যা থাকছে
এবারের নীতিমালায় কৃষি ঋণ সহজলভ্য করতে বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে প্রচলিত স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলবদ্ধ জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শস্য, ফসল ও মৎস্য খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের বিভিন্ন আয়-উৎসারি কর্মকাণ্ডেও দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দলের সদস্যসংখ্যার সীমাও শিথিল করা হয়েছে।
নতুন খাত হিসেবে হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো কার্যক্রমকে কৃষি ঋণের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্লুবেরি চাষ, শিমুল মূল ও অশ্বগন্ধা এবং ডিমের খোসা ব্যবহার করে জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন খাতেও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করতে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহার করা হবে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন এই নীতিমালা কৃষি খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতামত দিন