অনলাইনে কর ও শুল্ক দেয়ার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ গভর্নরের
অনলাইনে কর ও শুল্ক দেয়ার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এটা না করা গেলে রাজস্ব ব্যবস্থায় দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে না। তিনি কর ও শুল্ক ব্যবস্থার জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের উপর জোর দেন।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) প্রথম আলো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লেনদেনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা; পরিপ্রেক্ষিত ভ্যাট বৃদ্ধি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমি বিশ্বাস করি পণ্য আমদানি থেকে উৎপাদন ও বিক্রি পর্যন্ত ভ্যাট ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ইমিডিয়েটলি রাজস্ব খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে না। এখানে অনেক ধরনের সংস্কার দরকার রয়েছে, যা করতে দুই বছর থেকে তিন বছর প্রয়োজন। বর্তমান গভমেন্ট এই সময়টা পাবে না, তবে আমরা শুরু করব।
এছাড়া গভর্নর উল্লেখ করেন, কর ও শুল্ক যদি পুরোপুরি অনলাইনে প্রদান না করা হয়, তবে রাজস্ব ব্যবস্থায় দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে না। কয়েক বছর আগে তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই-এর (পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট) ট্যাক্স ফাইল জমা দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ডেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
মূল্যস্ফীতির বিষয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, অনেকেই মনে করছেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া পলিসি কাজ করছে না, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতেও পদক্ষেপ নেয়ার পর সুফল পেতে ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। আমরা আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিপোজিট প্রবৃদ্ধি খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ডিপোজিট প্রবৃদ্ধি হওয়া উচিত।
কর প্রশাসন ও করনীতি আলাদা করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গভর্নর বলেন, এটা হওয়ার পর সারা বছর নীতি নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।
ব্যাংকে আমানত রাখলে তিন হাজার টাকা করে কেন কেটে রাখা হবে- এমন প্রশ্ন তুলে এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে গভর্নর বলেন, এমন বিধান ব্যাংকে আমানত রাখতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করে।
গভর্নর বলেন, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং, যাই বলি না কেন- একে জনপ্রিয় করতে স্মার্টফোন সস্তা করতে হবে। এমএফএস বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহারকারী বাড়লে করও বাড়বে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলা কিউআর কোড চালু করা হলেও জনপ্রিয় হয়নি। তার প্রশ্ন, একই ধরনের সেবায় ভারত পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা এগোতে না পারার একটা বড় কারণ এটাকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া হয়েছিল। এমএফএসে আন্তঃলেনদেন পরিচালনার জন্য ‘বিনিময়’ নামে যে প্ল্যাটফর্ম করা হয়েছিল সেটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের শেল কোম্পানি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে