হরমুজে তিন মাস ধরে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’, চরম উৎকণ্ঠায় ৩১ নাবিক
তিন মাসের বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালির কাছে আটকা পড়ে আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগত এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজটির ৩১ জন নাবিক অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।
বুধবার (৩ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হওয়া ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা রয়েছে।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যেন একটি পুকুরের মধ্যে বন্দি। বের হওয়ার একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালি, কিন্তু কবে বের হতে পারব তা জানি না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই পথ বন্ধ করে দিলে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ জাহাজ আটকা পড়ে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যমতে, এসব জাহাজের অনেকেরই নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলার জয়যাত্রার চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, খাদ্য ও পানির সরবরাহ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরবরাহকারীরা দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ১৮০ টন পানি কিনতে আমাদের ১১ হাজার ডলার খরচ হয়েছে, যা আগে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যেত।
নাবিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং সাগরে মাইন পাতা থাকার কারণে তারা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।
রাশেদুল হাসান বলেন, সারা রাত হামলার শব্দে ঘুমাতে পারতাম না। আমরা নিজের চোখে ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, গত তিন মাসে দুবার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। একবার ইরানের সতর্কবার্তায় এবং আরেকবার সম্ভাব্য হামলার খবর পেয়ে জাহাজ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯টি হামলার ঘটনায় ১১ জন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের দাবি করা টোল পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকির কারণে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এখন এক উভয়সংকটের মধ্যে রয়েছি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক সমাধানই বর্তমানে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ও এর নাবিকদের নিরাপদ মুক্তির একমাত্র ভরসা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে