সামরিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের ঐকমত্য
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস ২০২৬ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, দুই দিনব্যাপী এই বৈঠক ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত আর্মি স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বৈঠকটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
এই বৈঠকটি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকসের ফলো-আপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে সেনাবাহিনীর মিলিটারি ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ বদরুল হকের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের সিকিউরিটি কো-অপারেশন ডিভিশনের মেজর মাইকেল জ্যাকব অস্টারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বৈঠকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিলিটারি ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির।
আইএসপিআর জানায়, বৈঠকে সামরিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ বিনিময়, আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা বাড়ানো এবং যৌথ সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া উভয় দেশের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও মহড়া আয়োজন এবং উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রস্তুতির গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে