Views Bangladesh Logo

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি সবচেয়ে বেশি, দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে চীনের সঙ্গে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, দেশটির সঙ্গে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৭৮৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংসদে দেওয়া তথ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চীন থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে দেশটিতে রপ্তানি করেছে ৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য।

ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য। অন্যদিকে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ৯৬২ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য।

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে ৩৫৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৫ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি ২৮০ কোটি ২৫ লাখ ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে ২৪৫ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, কাতারের সঙ্গে ২১০ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো ও জাপানসহ আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে।

এলডিসি উত্তরণে এফটিএ ও জিএসপি প্লাসের উদ্যোগ

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ভারতের সঙ্গে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জন এবং মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়ে কাজ চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ–ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ আলোচনার জন্য ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক ডাইরেক্টর জেনারেলের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে এফটিএ আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি চীন তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে সরকার।

বাণিজ্যঘাটতি কমাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ

বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যঘাটতি কমাতে সরকার রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্যসহ আটটি সম্ভাবনাময় খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এসব খাতের রপ্তানিকারকদের বন্ড সুবিধা দিতে ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করেছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ