আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের তিন তারকার নাটকীয় অবনতি
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিরতির প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়েও। আইসিসির সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে গেছেন বাংলাদেশের লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। বিপরীতে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বড় লাফ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই তরুণ ব্যাটার।
বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে গত জুলাইয়ে। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই সংস্করণে আর মাঠে নামেনি দল। সেই সময়ের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে লিটন দাসের। দুই ধাপ নেমে তিনি এখন ৬৫ নম্বরে। তার রেটিং পয়েন্ট ৪৯৬।
মে মাসের পর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে আর খেলেননি লিটন। এর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিন ইনিংসে ব্যাট করেও কোনো রান পাননি তিনি। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে লিটনের সময়টা ভালো যাচ্ছে না।
পারভেজ হোসেন ইমনও হারিয়েছেন তিন ধাপ। ৫১৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি এখন আছেন ৫৬তম স্থানে। তাওহীদ হৃদয় এক ধাপ পিছিয়ে নেমেছেন ৩৩ নম্বরে। তার রেটিং পয়েন্ট ৫৭৭। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হৃদয়। ওই সিরিজে তিন ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ৪৪ রান, আর ইমন করেছিলেন ৩০ রান।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই অবনতির বিপরীতে র্যাঙ্কিংয়ে বড় উত্থান হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন তরুণের। নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন তারা।
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কনর এস্টারজেইন। র্যাঙ্কিংয়ে ৬৫ ধাপ এগিয়ে ২৫ নম্বরে উঠে এসেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। সিরিজে পাঁচ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২৬ রান। নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৮৮ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।
এর চেয়েও বড় ব্যবধানে এগিয়েছেন লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস। চার ইনিংসে ২২৬ রান করা এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার একসঙ্গে ৬১ ধাপ পেরিয়ে যৌথভাবে ৪৩ নম্বরে উঠে এসেছেন। ৪ সেপ্টেম্বর নামিবিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫৩ বলে ১০১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসটিতে ছিল পাঁচটি চার ও আটটি ছক্কা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ৪৮ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি এই সিরিজে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে র্যাঙ্কিংয়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা।
নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসও র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন। ব্যাটারদের তালিকায় ১৬ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন ৫৫ নম্বরে। অলরাউন্ডারদের তালিকায় চার ধাপ উন্নতি করে অষ্টম স্থানে উঠে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানও অর্জন করেছেন তিনি। সিরিজে ১৪৯ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।
জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স চার ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২২ নম্বরে উঠেছেন। সিরিজে ১০ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম সফল বোলার। একই দলের সিকান্দার রাজা উঠে এসেছেন ২৭ নম্বরে। দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়েনা মাফাকা ১৬ ধাপ এবং বিয়র্ন ফর্টুইন ৩৭ ধাপ এগিয়েছেন।
এদিকে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের শীর্ষস্থানগুলোতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ৯১০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছেন ভারতের ইশান কিষাণ। পরের দুটি অবস্থানে রয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান ও অভিষেক শর্মা। সেরা দশে শুধু ফিল সল্ট ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের অবস্থান অদলবদল হয়েছে। সল্ট উঠে এসেছেন চতুর্থ স্থানে, আর ব্রেভিস নেমেছেন পঞ্চমে।
বোলারদের তালিকার শীর্ষ দশেও নেই কোনো পরিবর্তন। ৭৫৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। তবে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছেন নাসুম আহমেদ। এক ধাপ এগিয়ে ৬৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনি উঠে এসেছেন ১১ নম্বরে।
মতামত দিন