র্যামন ম্যাগসাইসাই পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান
বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজন। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের এমন কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা মানুষের সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তুলতে সহায়তার মতো মূল্যবোধকে ধারণ করে।
রুনা খান ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তার নেতৃত্বে সংস্থাটি বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার নামে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কার ১৯৫৮ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এশিয়ার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানবিক সেবা, নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।
প্রতিবছর ৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ বছর তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ একটি বিমান দুর্ঘটনায় র্যামন ম্যাগসাইসাই মারা যাওয়ার পর একই বছর তার নামে পুরস্কার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার বাংলাদেশের জন্যও নতুন কোনো অর্জন নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়নকর্মীরা।
২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে এই পুরস্কার দেওয়া হতো। শ্রেণিগুলোর মধ্যে ছিল সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০০ সালে উদীয়মান নেতৃত্ব শ্রেণিটি যুক্ত হয়।
২০০৯ সাল থেকে উদীয়মান নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং এশিয়ায় মানুষের কল্যাণ, সামাজিক পরিবর্তন ও নেতৃত্বে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
মতামত দিন