হঠাৎ নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি সন্দেহজনক: প্রধানমন্ত্রী
হঠাৎ সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে মাতামাতি
সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি
বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করা লাগে না। আওয়ামী লীগকে তো
জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়। আমরা কাজের মধ্যে দিয়ে আস্থা অর্জন করি।’
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনে যোগদান বিষয়ে তথ্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদেরকে স্পষ্ট বলে এসেছি-ভোটের জন্য তো আমরা সংগ্রাম করলাম, রক্ত দিয়ে আমার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার অর্জন করে দিয়েছি। আজকে আমাকে ভোটের অধিকার শেখাতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো সেই আইয়ুব খানের আমল থেকে আন্দোলন করি, রাস্তায় থাকি। এমন নয় যে নতুন এসেছি। স্কুলজীবন থেকেই রাস্তায় আন্দোলন-সংগ্রাম করছি। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে করেছি, ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে করেছি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া-সবই তো ভোট চোর।’
এ সময় বিএনপির উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, ‘তারা জানে নির্বাচন করে জনগণের ভোট পাবে না। তারা সব জায়গায় গিয়ে ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ, তাদের তো কোটি কোটি টাকা। ক্ষমতা থেকে এত বেশি টাকা মানি লন্ডারিং করেছে এবং এত বেশি টাকার মালিক হয়েছে যে এখন সেই টাকা খরচ করে যাচ্ছে।’
এ ছাড়াও সুশীল সমাজের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন,
‘কিছু স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে অনেকে বললেন মেগা প্রজেক্ট আমরা করে
ফেলেছি। কিন্তু দরিদ্রের জন্য আমরা নাকি কিছু করিনি। এ রকম বক্তব্য শুনলে মনে হয়
তারা বাংলাদেশটাকে দেখেনি। তারা ঘরের ভেতরেই আছেন। আর শুধু টেলিভিশনটাই দেখেন।
দিন-দুনিয়া তাকিয়ে দেখেন না।’
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ শতভাগ দেই। কমিয়ে ২৮ ভাগে নিয়ে আসব? সবাই একটু টের পাক যে (বিএনপি সরকারের সময় বিদ্যুতের অবস্থা) কী ছিল। আমরা তো ভুলে যাই। বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেছিলাম, প্রতিদিন যেন কিছুটা লোডশেডিং দেওয়া হয়। তা হলে মানুষের মনে থাকবে যে, লোডশেডিং আছে। পয়সা দিয়ে তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হবে। তখন আক্কেলটা ঠিক হবে যে এই অবস্থা তো ছিল। এখন তো আমরা করে দিচ্ছি, ভর্তুকি দিচ্ছি। কেন আমি ভর্তুকি দেবো?
তিনি আরও বলেন, সবাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও ভর্তুকির সুযোগটা অর্থশালী-বড় লোকেরা নিচ্ছে। সেখানে (বিদ্যুৎ ব্যবহার) একটা স্লট ঠিক করব। এখন থেকে কত পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে, তাদের জন্য এক দাম। আর তার থেকে যারা বেশি ব্যবহার করবে তাদের জন্য আলাদা দাম। ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, ওইভাবে কয়েকটা স্লট করে দেবো। যে বেশি ব্যবহার করবে, তাকে বেশি দামে কিনতে হবে। সেইভাবে একটাব্যবস্থা করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি। এটার ওপর কাজ চলছে, এভাবে আমরা করে দেবো।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে