ডারউইনে বাংলাদেশের পেস তোপে কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। মারারারা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া ৪০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৫৭ রান করেছে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের তোপে প্রথম সেশনেই ৭৪ রানে চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার জেক ওয়েদারল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে প্রথম সেশনেই জোড়া আঘাত হানেন তিনি। ওয়েদারল্ড ২৩ এবং হেড ২২ রান করে আউট হন। সবুজাভ উইকেটে দারুণ সুইং ও সিম মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে অস্বস্তিতে ফেলেন হাসান।
এরপর অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। শর্ট অব লেংথের বলে ক্যারির ব্যাটের ভেতরের কানা লেগে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। ৫৫ রানের জুটি ভাঙার পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ফের ধস নামে।
এর আগে মার্নাস লাবুশেনকে মাত্র ১ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন এবাদত। আর ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ।
তাসকিন পরে আরও একবার আঘাত হানেন। ৩৯তম ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন বো ওয়েবস্টারকে। ১২ রানে থাকা ওয়েবস্টারের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানে ষষ্ঠ উইকেটের ধাক্কা দেন ডানহাতি এই পেসার।
অন্যদিকে স্টিভ স্মিথ একপ্রান্ত আগলে রেখে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করছেন। ২ রানে থাকা অবস্থায় এবাদতের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। পরে ওয়েবস্টারের বিদায়ের পর ৪৫তম টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির অপেক্ষাতেও রয়েছেন স্মিথ।
প্রথম সেশনে অবশ্য দুটি রিভিউ হারায় বাংলাদেশ। ট্রাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের বিপক্ষে নেওয়া দুটি রিভিউই সফল হয়নি।
লাঞ্চের সময় হাসান মাহমুদের বোলিং ফিগার ছিল ২/২৫। তাসকিন ১/২৬ এবং এবাদত ১/১৭ নিয়ে প্রথম সেশন শেষ করেন। ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের তিন পেসারের সম্মিলিত আক্রমণই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের। ২০০৩ সালের সফরের পর দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সেই সফরে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। একই সঙ্গে ২২ বছর পর ডারউইনের মারারারা স্টেডিয়ামেও ফিরেছে টেস্ট ক্রিকেট।
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একাদশে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছে। অস্ট্রেলিয়ার একাদশে রয়েছে তিন বিশেষজ্ঞ পেসার, এক স্পিনার এবং পেস-বোলিং অলরাউন্ডার ওয়েবস্টার।
৪০ ওভার শেষে ১৫৭/৬—স্মিথ ও প্যাট কামিন্স এখন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বাংলাদেশের পেস-ত্রয়ী।
মতামত দিন