Views Bangladesh Logo

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের নাজমুন নাহার

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বদরবারে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন নাজমুন নাহার। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের ১৮৪টি দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাস গড়েছেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবেও এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। একজন নারী হিসেবে নয়, একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবেও তার এই অর্জন দেশের জন্য এক অসাধারণ সম্মানের বিষয়।

নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের যাত্রা শুরু হয় ২০০০ সালে, ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এরপর থেকে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ শুরু করেন। অধিকাংশ দেশ তিনি সড়কপথে ভ্রমণ করেছেন এবং একজন সলো ট্রাভেলার হিসেবে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। ভ্রমণের পথে বহুবার মৃত্যুঝুঁকি, দুর্ঘটনা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও তিনি কখনও থেমে যাননি। বরং প্রতিটি বাধা তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে নাজমুন শুধু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বই করেননি, বরং বিশ্বশান্তি ও মানবতার বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন দেশে “No War, Only Peace”, “Save the Planet” এবং “Stop Child Marriage”–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেছেন। তার এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে শান্তি, সচেতনতা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।

তার ভ্রমণজীবনে রয়েছে একের পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ২০১৮ সালের ১ জুন জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে ১০০তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে ১৫০তম দেশ হিসেবে সাওটোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ ভ্রমণ করেন। ২০২৪ সালে ১৭৫টি দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাহামা সফরের মাধ্যমে ১৮৪তম দেশ ভ্রমণের ঐতিহাসিক অর্জন সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবনেও নাজমুন নাহার সমানভাবে সফল। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সুইডেনে যান এবং লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে ২০১৫ সালে সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এশিয়া বিষয়ে আরেকটি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একজন গবেষক, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।

নাজমুন নাহারের এই অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এর আগে এই সম্মাননা পেয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা এবং মিখাইল গর্ভাচেভ-এর মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বরা। এছাড়াও তিনি প্রায় ৬০টির বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ