এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে নানা দুর্বলতা রয়েছে বলে উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে। বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে উত্তরণ-পূর্ববর্তী ঝুঁকিই এখন বেশি আলোচনায়।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ইউএন-ওএইচআরএলএলএস-এর এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সভায় র্যাপিডের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা এলডিসি উত্তরণকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্য ক্ষতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে আর্থিক প্রস্তুতি দুর্বল এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নও সন্তোষজনক নয়।
প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের দিকে এগোনোর সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার পরই উত্তরণ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালে উত্তরণের কথা থাকলেও করোনার কারণে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের নভেম্বরে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা আরও পেছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে