২৬ দেশে কমেছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি
বিশ্বের ২৬টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। কিছু বাজারে বাড়তি রপ্তানিও দেখা গেছে। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া এবং সুইডেনে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। তবে চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে।
পোশাক শিল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার সারা বিশ্বের রপ্তানি বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও।
নতুন বাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ভারত, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক এবং অন্যান্য দেশে রপ্তানি কমেছে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া এবং কিছু ছোট দেশে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
বড় বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ করা গেছে। জার্মানি: ২৪৬৮ থেকে ২১৮৭ মিলিয়ন (-১১.৪ শতাংশ), ফ্রান্স: ১০৯১ থেকে ৯৭২ মিলিয়ন (-১০.৮৯ শতাংশ), ডেনমার্ক: ৫৫৭ থেকে ৪৯৮ মিলিয়ন (-১০.৫৪ শতাংশ), বেলজিয়াম: ২৯৫ থেকে ২৬৮ মিলিয়ন (-৯.২২ শতাংশ)।
তবে কিছু বাজারে রপ্তানি বেড়েছেও। স্পেন: ১৬৯৯ থেকে ১৮০৪ মিলিয়ন (+৬.১৮ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস: ১০৫৭ থেকে ১০৭৭ মিলিয়ন (+১.৮৫ শতাংশ), পোল্যান্ড: ৭৯০ থেকে ৮৬৪ মিলিয়ন (+৯.৪৩ শতাংশ)।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেখানে জুলাই-ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৯,৪৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক। তবে আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় রপ্তানি আয় ৪.১৪ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বাজারে ক্রেতারা সংবেদনশীল। অর্ডার দেওয়া হলেও দাম কমানোর চাপও আছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ইউরোপীয় বাজারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। জুলাই-ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৩,৮৩৯ মিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৯.৮২ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় নেই, মাত্র ০.১০ শতাংশ কম। নিট পোশাকে সামান্য বৃদ্ধি থাকলেও বোনা পোশাকে হ্রাসের কারণে মোট রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে।
নতুন বা অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে প্রধান পতনশীল দেশগুলো হলো- রাশিয়া: ১৪৯ থেকে ১০৯ মিলিয়ন (-২৬.৬৩ শতাংশ), তুরস্ক: ২২৩ থেকে ১৬৫ মিলিয়ন (-২৫.৮০ শতাংশ), মেক্সিকো: ১৮৪ থেকে ১৫০ মিলিয়ন (-১৮.৬৬ শতাংশ), কোরিয়া: ২৩১ থেকে ২০১ মিলিয়ন (-১২.৮৪ শতাংশ), ভারত: ৩৭৬ থেকে ৩৩৭ মিলিয়ন (-১০.৪৪ শতাংশ)।
ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে কয়েকটি দেশে। সেগুলো হলো- চীন: ১১২ থেকে ১৪৬ মিলিয়ন (+২৯.৭৯ শতাংশ), সৌদি আরব: ৮৩ থেকে ১০২ মিলিয়ন (+২২.৮৪ শতাংশ), সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১২৪ থেকে ১৪০ মিলিয়ন (+১২.৮৯ শতাংশ), মালয়েশিয়া: ৯৭ থেকে ১০৯ মিলিয়ন (+১২.১৯ শতাংশ), দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫৭ থেকে ৬২ মিলিয়ন (+৬.৯৭ শতাংশ)। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার বহুমুখীকরণ ছাড়া স্থিতিশীল পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।
রফতানি উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ পোশাক ব্যবসায়ী সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯,৩৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬৩ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ক্রেতাদের ব্যয় সংকোচন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দাম কমানোর চাপ— সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল মালিক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার সারা বিশ্বের রপ্তানি বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও, যেখানে আমাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ধাক্কা খাচ্ছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে