২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট, লিটনকে নিয়ে স্বস্তির খবর দিলেন নাজমুল
অস্ট্রেলিয়ান এক সাংবাদিক কৌতূহল থেকেই প্রশ্নটি করেছিলেন, লিটন দাস কি খেলবেন? উত্তরে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের কণ্ঠে ঝরল স্বস্তি, ‘হ্যাঁ, সে এখন শতভাগ ফিট।’
চোট কাটিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি লিটন। গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁ পায়ের পেশিতে চোট পেয়েছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। টেস্টের আগে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলে জানিয়েছেন নাজমুল।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই ২৩ বছর পর বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।
প্রতিপক্ষ যে কঠিন, তা জানা আছে নাজমুলের। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিন চক্রের দুটিতেই ফাইনাল খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, আর সদ্য শেষ হওয়া অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ৪-১ ব্যবধানে। বর্তমান চক্রের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে আছে তারাই; বাংলাদেশ আছে চতুর্থ স্থানে, পয়েন্টের হার ৫৮ দশমিক ৩৩।
বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় আছে কারও কারও মনে। তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে দল।
তবে ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল বলেছেন, ‘আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, প্রতিটা সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, আমরা যেটা সব সময় বলি।’
ম্যাচ কত দিন গড়াবে, সেই আলোচনা নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা নেই তাঁর, ‘একেকটা সেশন গুরুত্বপূর্ণ। চার দিন যাবে, পাঁচ দিন যাবে, নাকি তিন দিন যাবে—এ ধরনের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সব সময় লক্ষ্য থাকবে যে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’
২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ওই সিরিজের দুই ম্যাচেই তারা হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে, যার একটি হয়েছিল এই মারারাতেই। তারপর দলটি অনেকটাই বদলে গেছে, টেস্টে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও উজ্জ্বল। তবু ব্যবধান যে এখনো অনেক, সেটিও অস্বীকার করার উপায় নেই।
দলকে বাড়তি প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না অধিনায়ক, ‘কাউকে বাড়তি প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই জানে এখানে একটা বড় স্কোর, ৫ উইকেট, দল হিসেবে ভালো করা—এসব আমাদের নিজেদের জন্য ও আমাদের দলের ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো কাজে দেবে। এ প্রেরণাই সবার ভেতর কাজ করছে। আমার দেখে মনে হচ্ছে, ভালো করতে সবাই অনেক আত্মবিশ্বাসী।’
চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে কন্ডিশনও। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে সাধারণত সুবিধা পান পেসাররা, আর মারারায় বসানো হয়েছে ড্রপ-ইন পিচ। এমন উইকেটে ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনাও জানিয়ে রাখলেন নাজমুল, ‘আমার মনে হয়, নতুন বলে সব সময় সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। এখানে যতক্ষণে আমরা ব্যাটিং করব, যে-ই ব্যাটিং করবে, যার যার সহজাত খেলাটা খেলবে এবং রানের জন্য খেলবে।’
দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি, ‘লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রেখে ব্যাটিং করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা খুবই ভালো বোলিং অ্যাটাক। তাই এই অ্যাটাককে ঠিকমতো সামলাতে হলে আমাদের অবশ্যই আরও অনেক বেশি মনোযোগ এবং ভালো চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’
চোটের কারণে এই সফরে নেই পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম। পিতৃত্বকালীন ছুটিতে ইতালিতে থাকা এবাদত হোসেন ছুটি সংক্ষিপ্ত করে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। স্পিন আক্রমণে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম, যিনি এখন টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
মতামত দিন