নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
এক দল ৬০ রানে জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। আরেক ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত। এই দলটির নাম নিউজিল্যান্ড। অন্য দলটি ৬ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। তাদের সামনে টিকে থাকার লক্ষ্য। কারণ হারলেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ। এই দলটির নাম হলো- বাংলাদেশ। এমন ভিন্ন পরিস্থিতিতে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকাল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
প্রবল প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ফর্মের তুঙ্গে দলটি। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে। এ সিরিজে পাকিস্তানকে দুই-দুইবার হারায় তারা। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছে নিউজিল্যান্ড। বেশ দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেছে দলটি। ফলে উড়তে থাকা নিউজিল্যান্ডকে মাটিতে নামিয়ে জয় পাওয়া অত সহজ হবে না। তাদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের ম্যাচ হবে এটি। এ চ্যালেঞ্জ জিততে হলে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার থাকতে হবে দলের সবার মাঝে। বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগে সর্বশক্তি বিনিয়োগ করতে হবে বাংলাদেশকে।
গত ম্যাচে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে যে ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখালেন তাওহিদ হৃদয় আর জাকের আলী অনিক, এমন শক্ত মনোবল আর সংগ্রামের মানসিকতা থাকতে হবে সব ব্যাটারদের মধ্যে। হঠাৎ ব্যাটিংয়ে ধস নামার পুরোনো রোগ দেখা গেছে ভারত ম্যাচে। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ম্যাচে আর কী থাকে? তারপরও হৃদয় আর জাকেরের রেকর্ড জুটিতে ম্যাচে বলতে গেলে শেষ পর্যন্ত লড়েছে বাংলাদেশ। এই দুই তরুণ ব্যাটিংয়ে যে আলোর পথ দেখালেন, সেই পথ ধরেই এগিয়ে যেতে হবে টপ-অর্ডার ব্যাটারদের। টপ-অর্ডার যদি সফল হয় তাহলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ভালো সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সুযোগ আছে।
তাওহিদ হৃদয় এখন চোটমুক্ত, খেলতে পারবেন। ইনজুরি কাটিয়ে বাংলাদেশের একাদশে ফিরছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। বড় ম্যাচের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এই অলরাউন্ডার। অতীতে এর বহু প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তার ফেরায় মধুর সমস্যায় পড়বে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ একাদশ থেকে কাকে বাদ দেয়া হবে- এ নিয়ে রীতিমতো এক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। মাহমুদউল্লাহকে খেলালে একজন ব্যাটারকে কী বাদ দিবে বাংলাদেশ? এমন হলে নাম আসতে পারে মুশফিকুর রহিমের। কেননা আগের ম্যাচে যদি মাহমুদউল্লাহ খেলতেন তাহলে তাওহিদ কিংবা জাকেরের মধ্যে একজনকে বাদ পড়তে হতো; কিন্তু দুজনেরই এখন একাদশে জায়গা পাকা। যদি মুশফিককে নিয়ে একাদশ সাজানো হয় তাহলে ওপেনার সৌম্য সরকারকে বাদ দেয়ার চিন্তা আসতে পারে। কারণ- উদ্বোধনীতে প্রথম ম্যাচে যেভাবে আউট হন এই ওপেনার, তার নাম কাটা যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এমন হলে উদ্বোধনীতে দেখা যেতে পারে স্বয়ং অধিনায়ক শান্তকেই। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। ব্যাটিংয়ে রদবদলের পাশাপাশি বোলিং কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ। কারণ গতিময় পেসার নাহিদ রানাকে এখনো খেলানো হয়নি। রাওয়ালপিন্ডির যে মাঠে খেলা, সেখানেই গতির ঝড় তুলে তারকা বনেছেন নাহিদ রানা।
শক্ত ব্যাটিং লাইনআপ, ক্ষুরধার বোলিং আর ফিল্ডিং মিলে দুর্দান্ত দল নিউজিল্যান্ড। সব দিক থেকে এগিয়ে থাকা দলটি বাংলাদেশের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই খেলতে নামবে। এ দলের বিপক্ষে বড় অনুপ্রেরণার জায়গা হতে পারে রাওয়ালপিন্ডির মাঠ। এই ভেন্যুতেই গত আগস্টে টেস্ট সিরিজে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার ইতিহাস রচনা করেছিল বাংলাদেশ। এ সিরিজের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচের সংযোগ না থাকলেও উইকেট ও কন্ডিশন বোঝার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব রাখবে। আর সেটি কাজে লাগিয়ে আবারও রাওয়ালপিন্ডিতে ক্রিকেটে দারুণ সফলতার মঞ্চ তৈরি করতে পারে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে অনুপ্রেরণা জায়গা আছে আরও।
গত ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বীরত্ব দেখায় বাংলাদেশ। কার্ডিফের সেই জয়, এখনো তরতাজা স্মৃতি। এর সঙ্গে যোগ হতে পারে সর্বশেষ মুখোমুখিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর গৌরব। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে হওয়া সেই ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় জয় পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এসব অর্জনকে পুঁজি করেই নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। যদিও অতীত রেকর্ড খুব একটা ভালো নয় তাদের। ওয়ানডেতে মোট ৪৫টি ম্যাচ খেলেছে দুদল। সর্বোচ্চ ৩৩ বার জিতেছে নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ১১ বার। অর্জনের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের নাকি নিউজিল্যান্ডের- চোখ রাখুন রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে