Views Bangladesh Logo

টানা দুই হারে শেষের পথে বাংলাদেশের এশিয়ান কাপের স্বপ্ন

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তাসখন্দের ডসিটিলক স্টেডিয়ামে সিরিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হেরেছে জেরার্ড জোন্সের দল। এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশের যুবারা। ফলে দুই ম্যাচে পয়েন্টশূন্য থেকে মূল পর্বে ওঠার আশা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দলের কৌশল ও প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বাঁচা-মরার ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে সিরিয়া। আক্রমণের ঢেউ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই চাপের ফল পায় সিরিয়া। ৪৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মুস্তফা শেখ ইউসুফের বাড়ানো লম্বা থ্রু পাসে বাংলাদেশের রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়। আবদুল্লাহ আলনাজারের ব্যাক পাস পেয়ে বেলাল আল মুসল ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। এগিয়ে যায় সিরিয়া।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির আগে আবারও আঘাত হানে সিরিয়া। আল হেরেকের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ফলে ২–০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে আক্রমণে গতি ও ধার বাড়ানো প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মাঠের চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং সিরিয়ার আক্রমণ সামলাতেই বারবার ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণকে। এডাম আব্বাসও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারেননি; তার কাছ থেকে কার্যকর কোনো আক্রমণও তৈরি হয়নি।

৭০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নাজমুল হুদা ফয়সাল। সেই ফ্রি-কিক থেকে আলমেরির দুর্দান্ত শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী। পরে আলমেরির কর্নার থেকেও বিপদ তৈরি হয়। সিরিয়ার একের পর এক আক্রমণে বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণ।

এই সময়ে জিদান ইউসুফের পারফরম্যান্স কিছুটা স্বস্তি দেয় বাংলাদেশকে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মুহূর্তে তার দৃঢ়তায় বিপদমুক্ত হয় দল। গোলরক্ষক রাজ চৌধুরীও কয়েকটি ভালো সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি।

তবে শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার তৃতীয় গোল ঠেকানো যায়নি। ৮৮ মিনিটে আবারও ফাউল করে সেট-পিসের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ। আবদুল্লাহ আলনাজারের নিচু শট ডি-বক্সে পেয়ে আলতো টাচে বল জালে পাঠান আল সাররাজ। তাতে সিরিয়ার জয় নিশ্চিত হয় ৩–০ গোলে।

দুই ম্যাচে দুই হার নিয়ে গ্রুপের তলানিতে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে এক জয় নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে সিরিয়া। উজবেকিস্তান ও ভারত রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।

এই হারে বাছাইপর্বে কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। মূল পর্বে যাওয়ার দৌড় থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে যুব দল। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের অস্বস্তিকেও বাংলাদেশের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় আনা হচ্ছে।

প্রস্তুতি ক্যাম্প চলাকালে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর বিরোধ এবং পরবর্তী সময়ে হাতাহাতির ঘটনা সামনে এসেছিল। এমন পরিস্থিতি দলের প্রস্তুতি ও পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এর সঙ্গে ছিল আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতি। বাছাইপর্বের আগে বাংলাদেশ আর্মি ও ফর্টিস এফসির বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে গ্রুপের অন্য দলগুলো তুলনামূলক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাছাইপর্বে এসেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির ঘাটতিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ