Views Bangladesh Logo

নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: হাইকমিশনার

নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহম্মদ শুহাদা ওসমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সফরে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই মন্তব্য করেন । পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতের সময় হাইকমিশনার মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরেন। তিন বলেন, বাংলাদেশের সরকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উন্নীত করার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিবিরোধী নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বৈঠকে দুই পক্ষ সহযোগিতার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন, যার মধ্যে রয়েছে রপ্তানি ও আমদানি বৈচিত্র্যকরণ, কৃষিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ক্রীড়া সহযোগিতা, শক্তি বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলাভিত্তিক অংশীদারিত্ব, পাশাপাশি বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি। এসময় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বৈঠকে উদীয়মান খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল খাতের উন্নয়ন এবং কৃষি-ভিত্তিক শিল্প। হাইকমিশনার প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়ার অটোমোবাইল কোম্পানিগুলি বাংলাদেশে গাড়ি অ্যাসেম্বল করতে পারে এবং এই খাতে বাংলাদেশি তরুণ পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে যৌথ বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাংলাদেশের সরকারের একটি মূল অগ্রাধিকার এবং দক্ষ মানবসম্পদ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশের যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বর্তমানে ১০,০০০-এর বেশি বাংলাদেশি ছাত্র মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছে, এবং বাংলাদেশি শিক্ষাবিদরা মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অবদান রাখছেন।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা দৃঢ় করার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকস, পাটজাত পণ্য এবং তৈরি পোশাকসহ আরও পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানির প্রস্তাব দেন। তিনি বাংলাদেশি শিল্প, সংস্কৃতি, খাদ্য এবং ভাষা প্রচারের জন্য মালয়েশিয়ায় একটি যৌথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও দেন। হাইকমিশনার পাল্টা হিসেবে উল্লেখ করেন যে, রবি ও এডটকোসহ মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

এসময় আসিয়ান-এর “সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার” হতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সমর্থন চান এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।

সাক্ষাতের সমাপনীতে দুই পক্ষই বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করে এবং অংশীদারিত্বকে গতিশীল ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য কার্যকর এবং ফলপ্রসূ উদ্যোগের মাধ্যমে যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ