বাংলাদেশের নেতৃত্বে এআই অধিকারবিষয়ক প্রস্তাব জাতিসংঘ পরিষদে গৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মানবাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জেনেভায় ‘মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। মানবাধিকার পরিষদে এ বিষয়ে এটিই প্রথম প্রস্তাব বলে জানিয়েছে জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।
বাংলাদেশের সঙ্গে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, মিসর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপাল এ উদ্যোগের মূল দলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছে। মিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই প্রস্তাবটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রস্তাবে এআইয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির কারণে মানবাধিকারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ বলেছে, এআই ইতোমধ্যে সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। তাই এ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষের মর্যাদা এবং নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে এআই ব্যবহারের কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রস্তাবটির খসড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়। এ সময় বাংলাদেশ ও সহযোগী দেশগুলো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা চালায়। উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শের মাধ্যমে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়।
বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এই প্রস্তাব গ্রহণকে এআই ও মানবাধিকারের মধ্যকার পরিবর্তনশীল সম্পর্ক নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। মিশনের মতে, এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং এআই থেকে সৃষ্ট সুযোগে সমতাভিত্তিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
মতামত দিন