একাত্তরের আগে আসামে প্রবেশকারী বাংলাদেশিরা নাগরিকত্বের যোগ্য
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে যেসব বাংলাদেশি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাদেরকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচনার আইনি বৈধতা বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) পাঁচ বিচারপতির একটি বেঞ্চ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৬এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।
এই পাঁচ বিচারপতির মধ্যে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি সূর্য কান্ত, এমএম সুন্দরেশ এবং মনোজ মিশ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন। তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা।
এই বিলের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটি সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত। নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬এ সাংবিধানিকভাবে সঠিক। বিচারপতি পারদিওয়ালা আইনের সংশোধনীকে ভুল ঘোষণা করেছেন। এর সহজ অর্থ হলো ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যারা আসামে আসেন তাদের নাগরিকত্ব বহাল থাকবে।”
আসাম চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের ৬এ ধারায় অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যারা ভোটাধিকার পান না। এই ধারার কারণে আসামের জনসংখ্যা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে বলে একটি রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল।
ওই আবেদনে বলা হয়, ৬এ ধারা আসামের মূল বাসিন্দাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার ‘লঙ্ঘন’ করেছে।
আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে আসাম চুক্তি ছিল একটি রাজনৈতিক সমাধান, যাতে ৬এ ধারাটি ছিল।
আদালত আদেশে বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনটি অন্যান্য রাজ্যেও করতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি। কারণ এটি আসামের জন্য বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। অভিবাসীর সংখ্যা ও সংস্কৃতিতে প্রভাবের প্রশ্নে আসামই এগিয়ে আছে। পশ্চিমবঙ্গে ৫৭ লাখ অভিবাসী ঢোকে আর আসামে এই সংখ্যা ৪০ লাখ হলেও আসামে এর প্রভাব বেশি। কারণ পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে আসামে জমির পরিমাণ কম।
নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগের সময়কে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া যায় না।
জানা যায়, এই সিদ্ধান্তের পর এখন বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীরা ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র আওতায় আবেদন করে নাগরিকত্ব পাবেন। শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় আবেদনকারীদের জানাতে হবে তারা কবে ভারতে আসেন। এরপর অনলাইনে কাগজপত্র যাচাই করার পর সঠিক আবেদনকারীদের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে