Views Bangladesh Logo

নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে হবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নতুন বাস্তবতা এবং দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। গত ১৭ বছর যে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সম্পর্ক ছিল, তা আর চলতে পারে না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারিত হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে ১৮০ দিন পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিতও সরকার দেয়নি।

জাদুঘরে আগে প্রদর্শিত ফেলানী হত্যাকাণ্ড কিংবা ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী বিভিন্ন বিষয় এখন আর দেখা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, জাদুঘরে কী প্রদর্শন করা হবে, তা নিয়ে সবসময়ই বিতর্ক থাকতে পারে। কারণ বিষয়টি নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা, এটি কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সময়ের ঘটনা নয়। তবে জাদুঘরের মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কীভাবে একটি ‘মাফিয়া ব্যবস্থা’ এবং এর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তা তুলে ধরা। নিচতলায় সেই কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া এবং ওপরের তলায় শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক পরাজয় ও ক্ষমতাচ্যুতির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, প্রদর্শনীর কিছু অংশ পরিবর্তন করা হয়েছে।

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন কি না, জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এর সম্ভাবনা রয়েছে এবং সম্ভাবনাটি যথেষ্ট বেশি। তবে এখনো সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের কাজ চলছে। ১৮০ দিনকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় হিসেবে না দেখে সরকার কী করেছে এবং কোথায় আরও কাজ করা প্রয়োজন, সেটি মূল্যায়ন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

১৮০ দিন পর মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা ইঙ্গিত সরকার দেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করবেন। বিষয়টি ১৮০ বা ৩৬৫ দিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হতে পারে, এমন আলোচনা বাইরে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের রদবদল হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। সরকারের বিবৃতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেই বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ যাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়, তিনি ভারতে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো বা সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। বিষয়টি ভারতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে এবং দণ্ডিত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত চাচ্ছে। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব ভারতেরও রয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে, বিশেষ সম্পর্কের কারণে আগের সরকার ভারতের সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে ছিল। অতীতের অভিজ্ঞতা ও জনমতের কারণে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে নয়, জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ভারতও এখন জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছে, যা ইতিবাচক। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের মতো। দুই দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে এবং সেগুলো দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মতো করেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা চীন থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ স্বাভাবিক। বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অতীতে ভারতে সফর করেছেন। তবে এ ধরনের যোগাযোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতি সম্মান থাকতে হবে। অতীতে কোনো ভারতীয় সংস্থার যে ধরনের মনোভাব ছিল, তা আর চলতে পারে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ এই সরকারের নেই। তিনি বলেন, ‘বন্ধু পরিবর্তন করা যায়, প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না।’ তাই ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে হবে, তবে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। গত ১৭ বছরের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের বাস্তবতা স্বীকার করার কিছু ইঙ্গিত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের অবস্থান দিল্লিতে তুলে ধরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন কি না, জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্রিকসের একটি অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে নয়, রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনবার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে, তবে ব্রিকসকে কেন্দ্র করে সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ