Views Bangladesh Logo

বাংলাদেশ-চিলি বাণিজ্য বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় জোর

চিলির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্তের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব।

বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশের তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়, পরিচয়পত্র গ্রহণের পর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চিলির প্রেসিডেন্ট গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনাও উপস্থিত ছিলেন।

জবাবে মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাংলাদেশেরও আগ্রহ রয়েছে। এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ সভায় দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় ও সম্ভাব্য চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, আগামী বছরের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনার সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি সই হতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে চিলির একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সেখানে রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও চিলির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। কার্যকর বাণিজ্য কাঠামো ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভবিষ্যতে এ বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ এবং চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রতিনিধিদল বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ১৯৭২ সালের ১ জুন স্বাধীন বাংলাদেশকে চিলির স্বীকৃতির বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গে চিলির নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার এ অঞ্চলে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের কথাও তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চিলি সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ