বাংলাদেশের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অগ্রসর হচ্ছে। যার লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ নিয়াংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেলে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক, ডিজিটাল, মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “ফ্যামিলি কার্ড” ও “কৃষক কার্ড”সহ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ-সেনেগাল সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে সেনেগাল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি ১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তিনি দ্বিপাক্ষিক এই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল অপতথ্য ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি, বিশেষত নারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদারের লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রস্তাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহী বলে জানান শামা ওবায়েদ। এছাড়া মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বমানবতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়াও বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানের প্রার্থিতার পক্ষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
ফোরামের সাইডলাইনে জাপানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহেই ওনিশি এবং পর্তুগালের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি আনা ইসাবেল জাভিয়ারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়াও তিনি ওমান, চাদ এবং সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে দিওখার ফায়ে এই ফোরামের উদ্বোধন করেন। প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ নিয়াং। চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামী ২৪ এপ্রিল শামা ওবায়েদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
মতামত দিন