ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরও বাংলাদেশের লিড ১০৬
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে অলআউট করার পর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে জাকের আলি অনিক ও নাঈম হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে স্বাগতিকরা। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭৯ রান করেছে বাংলাদেশ। এতে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। ব্যক্তিগত ও দলীয় ১ রানেই ফেরেন তিনি।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলামের জুটিতে বাংলাদেশের লিড ৫০ ছাড়ায়। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান ৩০ বলে ১৩ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের বলে বোল্ড হন। পরের বলগুলোতে চাপ সামলাতে না পেরে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দেন তাওহিদ হৃদয়। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা হৃদয় এবার ফেরেন শূন্য রানে।
মাথায় আঘাত পাওয়ায় মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলি। তবে দলের সংগ্রহে আর এক রান যোগ হতেই বৃষ্টি নামে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি দেওয়া হয়। এর আগে ৩৪ রান তুলতেই চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
চা বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন কুমার দাস। জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। ১০ বলে তাঁর সংগ্রহ ৪ রান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে ৯ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ান ওয়ারিকান। মাত্র ৩৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে, দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ১৮৪ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৬ রান করেন। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন চন্দরপল।
গ্রিভসও ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরেন। নাঈম হাসানের অফসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ১০৩ বলে দুটি চার মারেন তিনি। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দুই অফস্পিনার নাঈম ও মিরাজের বোলিংয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।
অভিষিক্ত অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ তিনটি চার মারলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হন তিনি। এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন নাঈম। জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে শূন্য রানে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন নাঈম।
বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান চারটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট শিকার করেন। দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের হয়ে ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকও পূর্ণ করেছেন নাঈম।
মতামত দিন