নাহিদকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। বাঁ-পায়ের পেশিতে গ্রেড-২ চোটে পড়ে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। অন্যদিকে চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না লিটন কুমার দাস ও শরিফুল ইসলাম। তবে দুজনকে দ্বিতীয় টেস্টে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে প্রথম টেস্ট, আর দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪ জুলাই চোট পান নাহিদ। স্ক্যান রিপোর্টে গ্রেড-২ ইনজুরি ধরা পড়ার পর বিসিবি জানায়, তার পুরোপুরি সুস্থ হতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগবে। শুরুতে দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও পরে তা বাতিল হয়ে যায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে নাহিদের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।
একই দিনে বাঁ-হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোট পান শরিফুল ইসলাম। পুনর্বাসনে ভালো অগ্রগতি হওয়ায় ২৯ জুলাই থেকে তার বোলিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ১২ আগস্ট ফিটনেস পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের অনুমতি মিললে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাম পায়ের কাফ মাসলে চোট পান লিটন কুমার দাস। সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) চিকিৎসা নিয়েছেন। পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য নির্বাচনের বিবেচনায় আসবেন তিনি।
চোটের তালিকায় আছেন আরও দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও মুস্তাফিজুর রহমানও। ফলে একসঙ্গে চার পেসারসহ পাঁচ ক্রিকেটারের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
এর মধ্যেই প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলে দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও জাকের আলী অনিক। নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অমিত হাসান। পেস বিভাগে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন তরুণ পেসার মুশফিক হাসান।
নাহিদকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলানো নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসারেই তাকে খেলানো হয়েছিল। জিপিএস ট্র্যাকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফাস্ট বোলারদের ম্যাচ ও বিশ্রামের পরিকল্পনা করা হয়। তার ভাষ্য, একজন পেসারকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রাখলেও ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে, তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ ম্যাচ ও বোলিংয়ের মাধ্যমে তাকে 'গ্রিন জোনে' রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নাহিদের চোট দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটি অস্ট্রেলিয়াতেও হতে পারত। বিসিবি তার ওয়ার্কলোড ও ফিটনেস নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তবে ফাস্ট বোলারদের শতভাগ ইনজুরিমুক্ত রাখা কখনোই সহজ নয়।
এদিকে একই সময়ে একাধিক ক্রিকেটারের চোট এবং লিটনের চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে লিটনের কাফ মাসলের চোট নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রটোকল যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিসিবির প্রধান ফিজিশিয়ান দেবাশীষ চৌধুরী ও জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে বোর্ড-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মতামত দিন