‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২৩ বছরে আরও বেশি টেস্ট খেলা উচিত ছিল’, শান্তর আক্ষেপ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। দীর্ঘ ২৩ বছর পর তাসমান পাড়ের দেশটিতে টেস্ট খেলতে নামছে টাইগাররা। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টেস্ট। এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে দুই দলের প্রায় নয় বছরের টেস্ট বিরতি।
যদিও আইসিসির বিভিন্ন আসর ও টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের অস্ট্রেলিয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রাকিবুল হাসানসহ কয়েকজন। তবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ যাচ্ছে ১৮ বছর পর, আর টেস্ট খেলতে ২৩ বছর পর।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, আমরা খবই লাকি যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমরা যদি এই দুই ম্যাচে ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের আরও বেশি আমন্ত্রণ জানাবে। তবে গত ২৩ বছর ধরে বাংলাদেশের আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
নিজেদের টেস্ট পারফরম্যান্স নিয়েও খোলামেলা আত্মসমালোচনা করতে দ্বিধা করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, এই সময়ে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনি। আর আগে থেকে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে হয়তো অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আরও কয়েকটি টেস্ট খেলার সুযোগ মিলত।
আসন্ন সিরিজে জয়ের লক্ষ্য থাকলেও নিজেদের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলার কথাই তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে আরও বেশি টেস্ট আয়োজনের পথ তৈরি হবে।
শান্ত বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পারি এবং তাদের কঠিন সময় দিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে অবশ্যই আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে বাংলাদেশ শিবির। পেসার নাহিদ রানা চোটের কারণে ইতিমধ্যে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, বাঁ পায়ের কাফ মাসলের চোটে ভোগা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাসের স্ক্যান রিপোর্টে দুশ্চিন্তার তেমন কারণ পাওয়া যায়নি এবং সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিয়ে সেরে ওঠার পথে আছেন তিনি, ফলে সিরিজে তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।
উল্লেখ্য, টেস্টে এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে মাত্র একবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, সেটিও ২০১৭ সালে মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে। বাকি পাঁচ ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা।
মতামত দিন