সিরিজ কঠিন হবে মনে করেন ইংলিস, মিরপুরে ভালো উইকেটে আস্থা মিরাজের
এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামীকাল মঙ্গলবার মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। অতীতের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং আসন্ন সিরিজ বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে প্রথম ম্যাচের আগের দিন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস।
সোমবার ট্রফি উন্মোচনের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তাদের অনেক অলরাউন্ডার আছে। ঘরের মাঠে তারা নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী দল। আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রাখি। আশা করি এটা একটা ভালো সিরিজ হবে।’
উইকেট প্রসঙ্গে ইংলিস বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেটে ঘাস দেখেছি। নতুন বলে সিম বেশ কাজ করেছিল। উইকেট কিছুটা সিমবান্ধব ছিল। এটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি। উইকেট একটু দেখেছি, আজ আরও ভালোভাবে দেখব।’
পেসার নেথান এলিস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নেথান আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। গত কয়েক বছরে সে অনেক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। আমরা তাকে যে ভূমিকা দিয়েছি সেখানে সে ভালো করেছে। বোলিংয়ে তার বৈচিত্র্য আছে, সে দক্ষ বোলার। আশা করি এই সিরিজেও সে তার ভূমিকা পালন করবে।’
‘এই সিরিজটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশ খুব কমই মুখোমুখি হয়। আমাদের ছেলেরা বেশ উত্তেজিত। এই পরিবেশে খেলতে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে,’ যোগ করেন তিনি।
এদিকে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে স্পিনবান্ধব প্রকৃতির কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই মাঠে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পেসবান্ধব পিচ তৈরির কথা ভাবছে বাংলাদেশ দল।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘মিরপুর মানেই স্পিন উইকেট— এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। আমি বিশ্বাস করি এখানে ভালো উইকেট তৈরি করা সম্ভব।’
‘গত দুই-তিনটি সিরিজে উইকেট বেশ ভালো ছিল বলে মনে হয়েছে। আমরা ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করব। ভালো উইকেটে জয় পেলে, বোলাররা ভালো বোলিং করলে আর ব্যাটাররা রান করলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। সামনে টুর্নামেন্ট আছে, তার আগে ভালো উইকেটে খেলে আত্মবিশ্বাস অর্জন করা দলের জন্য অনেক উপকারী হবে,’ যোগ করেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ এ সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ চার বছর পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্যই মোসাদ্দেককে দলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক।
অবশ্য এর আগে মোসাদ্দেক যখন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন, তখন নির্বাচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মোসাদ্দেক আর মিরাজের খেলার ধরণ ও পজিশন অনেকটা একই বলে মিরাজ যতদিন দলে আছেন, ততদিন হয়তো মোসাদ্দেকের জন্য দরজা বন্ধও থাকতে পারে। তা এখন মিরাজ অধিনায়ক থাকতেই যেহেতু মোসাদ্দেক দলে ফিরলেন, তাহলে মোসাদ্দেকের ভূমিকা কী হতে পারে?
এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেছেন, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসাথে বাংলাদেশ টিমে অনেকদিন খেলেছি। আপনারা যদি দেখেন ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা খেলেছি একসাথে। তাই আমার কাছে মনে হয় এটা কোনো ডিফারেন্ট কোনো ইস্যু না। মোসাদ্দেক মোসাদ্দেকের রোলটা প্লে করবে, আমি আমার রোলটা প্লে করব। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলো বোলিং অলরাউন্ডার। সো দুইজনের রোলটা ডিফারেন্ট।’
মিরাজ যোগ করেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ও (মোসাদ্দেক) যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য অনেক বিরাট উপকার হবে। দিন শেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে, দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। ঘরোয়াতে ও যেভাবে পারফর্ম করেছে, আমি ওকে নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী। যদি সুযোগ আসে, ও ভালো করবে।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে হবে ১১ ও ১৪ জুন। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভেন্যু বদলাতে হবে দুই দলকে। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে হবে তিন টি-টোয়েন্টি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে