ক্রিকেট বিশ্বের চার পরাশক্তি ‘সেনা’ দেশগুলোর মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ছুঁয়ে ফেলেছে আরেকটি বিশেষ মাইলফলক। ক্রিকেট বিশ্বের চার পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা যা একত্রে পরিচিত ‘সেনা’ (SENA) অঞ্চল নামে; তাদের নিজেদের মাটিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর মধ্য দিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয়বারের মতো নাম উঠল টাইগারদের।
এর আগে ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় দিয়ে সেনা অঞ্চলে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার নিউজিল্যান্ডের ১৭ ম্যাচের ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দল। চার বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে সেই তালিকা আরও সমৃদ্ধ করল বাংলাদেশ।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, সেনা অঞ্চলে বাংলাদেশের এই সাফল্য এখনো ব্যতিক্রমই বটে। অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই চার দেশের মাটিতে খেলা ২৫ টেস্টের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ—সেটিই ছিল মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের সেই ম্যাচ। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেনা অঞ্চলে সবচেয়ে সফল এশীয় দল ভারত, যাদের জয় ৩১টি টেস্টে। এরপরই আছে পাকিস্তান, ২৮ জয় নিয়ে। শ্রীলঙ্কার জয়সংখ্যা ৯। এই তুলনায় বাংলাদেশের অর্জন সংখ্যায় কম হলেও, প্রতিটি জয়ের গুরুত্ব ও প্রভাব কোনো অংশে কম নয়।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়াকে বরাবরই সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় উপমহাদেশীয় দলগুলোর জন্য। এমনকি ভারতই একমাত্র এশীয় দল, যারা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিততে পেরেছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে সেই কীর্তি গড়ার পর পরবর্তী সিরিজেও তা ধরে রেখেছিল তারা। পাকিস্তান সবশেষ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জিতেছিল সেই ১৯৯৫ সালে, আর শ্রীলঙ্কা এখনো অপেক্ষায় আছে তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া জয়ের। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই জয় বাড়তি গুরুত্ব বহন করে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করল, ঘরের মাঠের বাইরে বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের ক্রমেই বাড়ছে। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পর ডারউইন—সেনা অঞ্চলে পরপর দুটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিণত হয়ে ওঠার এক বড় প্রমাণ। আগামী দিনগুলোয় ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে জয়ের অপেক্ষা এখনো রয়েছে, তবে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এই দুটি জয় নিঃসন্দেহে বড় প্রেরণা জোগাবে টাইগারদের জন্য।
মতামত দিন