টানা পঞ্চমবার দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রাখল বাংলাদেশ
শিল্পখাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার মতো নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি।
তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভিয়েতনাম এগিয়ে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ, যেখানে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। ফলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে ভিয়েতনাম দ্রুত এগিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়াও নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান অটুট রাখতে উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও উন্নত করতে হবে।
ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে সামগ্রিকভাবে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে তুরস্ক।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
মতামত দিন