Views Bangladesh Logo

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ : রাষ্ট্রপতি

হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন । তিনি বলেন দেশকে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সমৃদ্ধ করতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও অগ্রসর হতে হবে এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে । সুপরিকল্পিতভাবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

চাষীদের পাট চাষের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল পাট চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যপণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসুন, অল্প খরচে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিংকে বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিচিত করার জন্য উৎসাহিত করেন।


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, পাট বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পাট একদিকে পণ্য, অন্যদিকে শিল্পজাত ও রপ্তানি পণ্য হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে পাটের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পাট ও পাটজাত পণ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমাদের অবশ্যই এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সার্বিক সংস্কার, অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্যে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বন্ধ পাটকল পুনঃপ্রচলনসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

পাট খাতকে আরও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আধুনিক করার জন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের পাট উদ্ভাবন, পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে আগামী পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে ধাপে ধাপে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, বাজার ও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যসহ প্রশিক্ষণ পাবেন।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পাটপণ্যের বাজার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের সকল পাটকলের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঁচাপাটের যোগান ও রপ্তানি বাজারের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থা ও আধুনিক কর্মসূচি প্রয়োজন। সরকার পাট রপ্তানি বাড়াতে এবং মূল্য সংযোজিত পাটজাত পণ্য উৎপাদন সম্প্রসারণে সকল উদ্যোগ নেবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ পরিহার করুন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাট ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন। বর্তমান জনবান্ধব সরকারের হাত ধরে পাটখাতে সোনালী দিন ফিরে আসবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ