Views Bangladesh Logo

১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে চালু হতে পারে ডিজিটাল আইডি: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

বাংলাদেশে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে একক ডিজিটাল পরিচয় বা ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। নতুন এই পরিচয়ব্যবস্থাকে সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিরাপদ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিপিআই তৈরির কাজ চলছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান রেহান আসাদ। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রযুক্তিবিষয়ক দূতের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে আলোচনা করেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে অনুষ্ঠানের প্যানেলে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ হিসেবে অংশ নেয়।

রেহান আসাদ বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ ও আধুনিক ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত হবে। তিনি বলেন, এই অবকাঠামো তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে সময় লাগবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল সেবাব্যবস্থার ভিত্তি তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ধারণা হচ্ছে, একজন নাগরিকের জন্য একটি একক ও স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় থাকবে। ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ওয়ালেট’ ধারণার আওতায় ভবিষ্যতে সরকারি বিভিন্ন সেবা, পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল লেনদেনের মতো কাজ একই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নাগরিকদের একই তথ্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এস্তোনিয়ার এক্স-রোড মডেল নিয়েও কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রেহান আসাদ। বিভিন্ন সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এ ধরনের আন্তঃসংযোগ কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থার মধ্যে ভবিষ্যতে সীমান্তপারের যোগাযোগ ও পারস্পরিক কার্যকারিতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েও নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত একক ডিজিটাল পরিচয় জন্মের পর থেকেই নাগরিকের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ একাধিক পরিচয় ও সনদ ব্যবস্থার পরিবর্তে সমন্বিত একটি পরিচয় কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে এই পরিচয়ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে নতুন ব্যবস্থায় ঠিক কোন কোন তথ্য থাকবে এবং এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অবকাঠামোর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নাগরিকদের আস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। রেহান আসাদ বলেন, ভবিষ্যতে ডিজিটাল পরিচয় ও ডিপিআই শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সেবাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থার কাঠামোও গড়ে তুলতে হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ