Views Bangladesh Logo

‘আর দুর্বল দল নয় টাইগাররা’, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার তারকাসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা দেখেছিলেন খুব কম মানুষই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় সিরিজের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল একের পর এক চোটের ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানাকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে যান তিনি।

তবে মাঠের পারফরম্যান্সে নিজেদের নতুন পরিচয় দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে। হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের পর ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। ফলে ১৫৩ রানের লিড পেয়েছে সফরকারীরা। তানজিদ করেছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হয়েছেন তিনি। মুমিনুল হক ও শান্তও পেয়েছেন অর্ধশতক।

তানজিদ ও হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ডেভিড ওয়ার্নার। বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ক্রিকেট ডটকম ডট এইউ এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা আর ‘দাঁতহীন টাইগার’ নয়। দলটি এখন আর ছোট দল নয়, বরং প্রতিপক্ষের জন্য সত্যিকারের হুমকি।

অন্যদিকে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো একটি দলের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ব্যাটিংয়ের শিক্ষা পেয়েছে। একসময় যে দলকে নবীন হিসেবে দেখা হতো এবং নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগও খুব কম পেয়েছিল, সেই বাংলাদেশই এবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ক্রিকেটের বাস্তব শিক্ষা দিয়েছে।

২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরের তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামার কথা বলেছিলেন অধিনায়ক শান্ত। তার ভাষায়, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ আর নেই। ডারউইনে এখন পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সে সেই কথারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য লিড আরও বড় করা। আর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ম্যাচে ফিরতে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ